এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ আগস্ট : উত্তর ২৪ পরগণা জেলার হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’পুলিশ হেফাজতে অত্যাচারের কারনেই ওই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট । আমি হালিশহর থানার আইসি-কে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করলাম । সেই সাথে সাসপেন্ড করা হল ইনভেস্টিগেশন অফিসারকে(আই ও) ।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান,ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে এবং ডিজিপি ও মুখ্যসচিব তদন্ত প্রক্রিয়ায়ার উপর নজর রাখবেন । পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে নিজের অফিসের অ্যাটেনডেন্ট চাকরি ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
গত শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার । পরিবারের অভিযোগ, লকআপে পুলিশের মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বিরজু কুমারের ।
আজ সোমবার সকালে মন্ত্রী অর্জুন সিং, স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং ব্যারাকপুরের সিপিকে সঙ্গে নিয়ে হালিশহরে নিহতের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন। হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিহতের স্ত্রীর জন্য চাকরি এবং পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃত বিরজু কেওট-এর স্ত্রী এবং পরিবার সরকার এবং প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছেন, এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পরিবারের প্রধান দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নেওয়া।
তিনি আরও জানান,পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি, এই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কঠিন সময়ে সরকার বিরজু কেওটের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একটা চিঠি আমাকে মৃতের স্ত্রী দিয়েছেন। মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। ওঁরা দেখা করেননি।’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় এমন উদাহরণ দেখাতে পারবেন না যে, কোনও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছেন। যা এখন দেখতে পাচ্ছেন।’।
