এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০২ আগস্ট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের পর শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন৷ তবে কোনো চুক্তি না হলে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।শনিবার নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আপাতত ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন,’আমেরিকার সামরিক শক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে দেশ প্রস্তুত।’ তিনি বলেন,’যেহেতু ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হামলাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ করেছে, তাই আমরা বিশ্বের সর্বোত্তম স্বার্থে এবং একটি সমৃদ্ধ ইরান বজায় রাখার লক্ষ্যে আপাতত হামলাটি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছি।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ।
তিনি বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসতে হবে। এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর অবিলম্বে ও সম্পূর্ণ উন্মোচন এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ট্রাম্প আহ্বান জানান,”এই অঙ্গীকারে ইসরায়েল আমাদের পাশে আছে। আসুন আমরা সবাই কাজে লেগে পড়ি এবং দ্রুত চুক্তিটি সম্পন্ন করি ।”
এদিকে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এবং ইরান ও তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনুরোধের জেরে ট্রাম্প হামলাগুলো বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আরও বৃদ্ধি রোধ করতে তিনি ট্রাম্পকে পরিস্থিতি শান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছেন।এমন খবরও ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকে এই সংঘাত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের পাল্টা আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।।

