এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ জুলাই : উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিগঞ্জে ৩৩ বছরের যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । ঘাতক কালিয়াগঞ্জ থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই)মেয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করলেন তিনি । সেই সাথে ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তিনি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন ।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কালিগঞ্জ থানার রাধিকাপুরে নিজের বাড়িতে খুন হয়ে যান রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মন । তিনি ছিলেন কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য বিষ্ণু বর্মনের খুড়তুতো ভাই। মৃত্যুঞ্জয় বর্মন শিলিগুড়িতে একটি নির্মাণ সংস্থায় সুপারভাইজারের কাজ করতেন। আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষে দিন দশেক আগে বাড়ি এসেছিলেন ।
আজ শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, রাজবংশী পরিবারের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে নৃশংস ভাবে শারিরীক অত্যাচার করে খুন করা হয় । তার দেহ পুকুরে ভেসে ওঠে । স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের উপ-প্রধানের ছেলে অভিযুক্ত হয় এবং গ্রেফতার হয় । তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য স্থানীয় মানুষ কালিয়াগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য জড়ো হন । পুলিশের সঙ্গে বচসা হয় । পুলিশের ছোট্ট মেয়েটার বিবস্ত্র দেহ কিভাবে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সেটা সকলেই টিভিতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন । এই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ধরপাকড় চলে ।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,একজন রাজবংশী যুবক, নাম তার মৃত্যুঞ্জয় বর্মন, তিনি শিলিগুড়িতে একটি অস্থায়ী কাজ করতেন । তার বাড়িতে তিনি এসেছিলেন গ্রামের একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে । ওনার জ্যাঠামশাই আন্দোলনে গিয়েছিলেন । তাকে গ্রেফতার করার জন্য রাত্রে দুটোর সময় পুলিশের টিম মৃত্যুঞ্জয়দের বাড়িতে পৌছায় । মৃত্যুঞ্জয় বর্মন দরজা খোলেন । ওনার জ্যাঠামশাইকে না পেয়ে কালিয়াগঞ্জ থানার এএসআই মেয়াজ্জেম হোসেন সরাসরি বুকে গুলি করে মৃত্যুঞ্জয় বর্মনকে খুন করেন ।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরে এর প্রাথমিক তদন্ত করেছি । এএসআই মেয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হলো । তার বিরুদ্ধে এফআইআর-এর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, পুলিশ যদি নিজের সীমা অতিক্রম করে, তবে কোনও পরিস্থিতিতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে আরও পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।।
