এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১৬ জুলাই : বলিউড অভিনেতা আমির খান কিছুদিন আগে তৃতীয়বার বিয়ে করেছেন। তৃতীয় স্ত্রীও অমুসলিম । তার নাম গৌরী স্ট্রেইট । বিয়ের পর থেকেই তাঁরা ক্রমাগত বিতর্কের মুখে পড়েছেন এবং ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতীশ রানে আমিরকে ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলেও অভিহিত করেছেন। এমনকি অযোধ্যার তপস্বী ক্যান্টনমেন্টের প্রধান জগৎগুরু পরমহংস আচার্য তাঁর এই বক্তব্য সমর্থন করে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমির খান যেভাবে তিনটি বিয়ে করেছেন—যার সবকটিই হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে—এবং এই বয়সে, যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, তখন তিনি কেবল লাভ জিহাদের বার্তা ছড়ানোর জন্যই এমনটা করেছেন… নীতীশ রানের অভিযোগগুলো কোনো সাধারণ অভিযোগ নয়, বরং এগুলোই বাস্তব সত্য।”
শুধু তাইই নয়, তিনি বলেছেন : “এমন মানুষদের যেখানেই পাবে, সেখানেই অবিলম্বে হত্যা করা উচিত। এরা সমাজের বড় অপরাধী। লাভ জিহাদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এরা এভাবেই ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে আমি ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করছি। আমরা আইনি খরচের ভার নেব এবং তাঁর পরিবারকেও ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেব। এভাবেই যদি লাভ জিহাদের সঙ্গে জড়িত ১০০-২০০ জন বড় মাপের মানুষকে হত্যা করা যায়, তবে লাভ জিহাদ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”
গত ৫ জুলাই আমির খান ও গৌরী স্ট্রেইটের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। আমির নিজেও লাভ জিহাদের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। ‘রেডিফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের তিনটি বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,”গৌরী, কিরণ কিংবা রিনা—কারও ক্ষেত্রেই ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেনি, কারণ আমাদের বিয়েগুলো হয়েছিল আইনি বা সিভিল ম্যারেজ পদ্ধতিতে। গৌরী তো হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান; তাও আবার তিনি খুব একটা ধর্মানুরাগী খ্রিস্টান নন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা যেন আরও বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে। আসল সত্য হলো, আমাদের পরিবারটি অত্যন্ত অসাম্প্রদায়িক ও সব মতের মানুষকে আপন করে নেওয়া একটি পরিবার। আমার দুই বোনের বিয়ে হয়েছে হিন্দুদের সঙ্গে; আমার মেয়ের বিয়েও হয়েছে এক হিন্দুর সঙ্গে। আর আমার কাজিন মনসুর বিয়ে করেছেন এক খ্রিস্টান নারীকে।”
