এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরাখণ্ড,১৬ জুলাই : ইসলামিক প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা নিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৭-২৮ সাল থেকে ৪৫৬টি মাদ্রাসার সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে, পুরোনো মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিশুরা ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে এবং ভালো চাকরি পাবে।
উত্তরাখণ্ড সরকার বিশ্বাস করে যে নতুন নিয়মকানুন শিশুদের মূলধারার শিক্ষা নিশ্চিত করবে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানকারী প্রায় ৪০০টি মাদ্রাসাকে জেলা-স্তরের স্বীকৃতি নিতে হবে। অন্যদিকে, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানকারী ৫২টি বড় মাদ্রাসাকে উত্তরাখণ্ড শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত করা হবে।
মৌলবী, আলিম এবং মুন্সির মতো শংসাপত্রগুলি সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য বৈধ নয়। তবে, এখন রাজ্য বোর্ডে যোগ দেওয়ার পর এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরি পাওয়া অনেক সহজ হবে। তারা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো সমস্ত সরকারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
সরকার মাদ্রাসাগুলোর জন্য কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন, প্রতিটি মাদ্রাসার নিজস্ব জমি এবং পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলযুক্ত কক্ষ থাকা আবশ্যক। শিক্ষকদের অবশ্যই বি.এড. এবং টেট (TET) উত্তীর্ণ হতে হবে। বিদ্যালয়ে একটি গ্রন্থাগার এবং একটি বিজ্ঞান গবেষণাগারও থাকতে হবে।কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো মাদ্রাসা জোর করে বন্ধ করা হবে না। যদি কোনো মাদ্রাসা এই শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে শিক্ষার্থীদের অন্য উন্নততর বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে কোনো শিক্ষাগত ক্ষতি হবে না। অধিকন্তু, স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলো আগের মতোই কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল পেতে থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কোনো ধর্ম বা ঐতিহ্যকে আঘাত করা নয়। তারা চায় শিশুরা কম্পিউটার, গণিত ও বিজ্ঞান শেখার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গেও সংযুক্ত থাকুক।এই নতুন নিয়মটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়কেই নয়, বরং শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন ও পারসি—এই ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সকল শিশুদেরও অগ্রগতির সমান সুযোগ দেবে। সরকারের সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন শিশুদের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে।
কিছু মুসলিম সংগঠন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর মহম্মদ সেলিম বলেন যে, মাদ্রাসায় হিন্দি ও ইংরেজির মতো বিষয় ইতিমধ্যেই পড়ানো হচ্ছে। তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তটি ভুল এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের মাওলানা সাজিদ রশিদি বলেছেন যে, সামাজিক অনুদানে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলো প্রভাবিত হবে না। তাদের কেবল নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করতে হবে। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের একটি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, যেখানে আদালত বলেছিল যে, সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নিয়ম তৈরি করতে পারে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকারকেও অবশ্যই সম্মান করতে হবে।।
