প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৫ জুলাই : এক আশাকর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর ও প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক বিজেপি নেতা।ধৃতের নাম সুশান্ত মণ্ডল।তিনি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার উত্তর মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের সহ -সভাপতি।জামালপুর থানার পুলিশ সোমবার রাতে স্থানীয় হালাড়া মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।এই মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের সম্পাদক বসন্ত পাঁজা সহ বাকি অভিযুক্তরা সকলেই গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ জামিন অযোগ্য একাধীক ধারায় মামলা রুজু করে ধৃত সুশান্ত মণ্ডলকে মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে।বিচারক ধৃতকে ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।বিজেপি নেতাদের এমন কীর্তির কথা জানাজানি হতেই জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযোগকারী আশা কর্মী বাড়ি জামালপুর থানার হিরণ্যগ্রামে। তিনি চলতি বছরের ১৯ মে বসন্ত পাঁজা ও সুশান্ত মণ্ডল সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।তাঁর অভিযোগ, তিনি বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়ির জায়গা ঘিরেছিলেন। সেই জায়গা দখল করার জন্যে ১৮ মে বসন্ত পাঁজা দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। সেই দলে বহিরাগত সুশান্ত মণ্ডলও ছিল।তারা শাবল,লোহার রড,কাটারি, লাঠি নিয়ে তাঁর বাড়ির ভিতর ঢুকে ভাঙচুর করে। তাঁকে মারধোর করে এবং প্রাণ নাশের হুমকিও তারা দেয়।
আশাকর্মী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন,’আমি ওইদিন বসন্ত পাঁজা,সুশান্ত মণ্ডলদের হাতে পায়ে ধরেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কোনও কথা শোনে নি।উল্টে ওরা আমার উপর অনেক অত্যাচার করে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমার স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন।আমি আমর মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকি। তাই ওই দিনের ঘটনার পর থেকে ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত বসন্ত পাঁজা যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা
অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি ফেনে জানান,’ওই
আশাকর্মী সম্পর্কে তাঁর বৌদি হন। তৃণমূল আমলে জামালপুর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁনের পরামর্শ মতো তাঁদের যাতায়াতের জায়গা দখল করে নিয়ে বেড়া দিয়ে দিয়ে ছিলেন ওই আশাকর্মী।২০২৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনি সুশান্ত সহ কয়েকজন দলীয় সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বেড়া উপড়ে দেন।এর বাইরে আর কিছু হয়নি ।” একই দাবি করেছেন বেজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দেবিকা দেবনাথ । তিনি এও দাবি করেছেন,“মেহেমুদ খাঁন এখন জেল খাটছে। এই অবস্থায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করানোর জন্য ওই আশাকর্মীকে দিয়ে কলকাঠি নাড়িয়েছেন বিজেপির’ই জামালপুর ১ মণ্ডলের সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল ।” যদিও প্রধানচন্দ্র পাল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন,’বাংলায় এখন আইনের শাসন চলছে । অন্যায় কাজে যুক্ত থাকার দরুন পুলিশ আইন মেনেই সুশান্ত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে।’
জামালপুর থানার পুলিশ কর্তারা জানিয়েছে,সুশান্ত মণ্ডল এই প্রথম গ্রেপ্তার হল,এমনটা নয় ।এর আগে
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জামালপুরের উত্তর মোহনপুরের ১৪১ ও ১৩৯ নম্বর বুথে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন।ভোটের কয়েক দিন তাঁদের বাড়িতে ’বোমা’ মারার অভিযোগ এনে তৃণমূলের দু’জনের নামে থানায় অভিযোগ করে সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে ওই দম্পতি স্থানীয় এক যুবককে বরাত দিয়ে নিজেরই নিজেদের বাড়িতে বোমা মারা করিয়েছে। পুলিশ প্রথমে ওই যুবককে এবং পরে সুশান্ত মণ্ডল কে গ্রেপ্তার করে ।গ্রেপ্তারি এড়াতে দেবিকা গা ঢাকা দেন । পরে তারা সবাই জামিনে ছাড়া পান । এর কিছুদিন পর হাঠাৎ করেই সিপিএম ত্যাগ করে প্রধানচন্দ্র পালের হাত ধরে সুশান্ত মণ্ডল ও দেবিকা দেবনাথ একসাথে বিজেপিতে যোগদান করেন।তাঁরা বিজেপির পদও পেয়ে যান ।” এক পুলিশ কর্তা জানা, সুশান্তের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ- চুরিরও মামলা রয়েছে।
জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার বলেন,“সুশান্ত মণ্ডলের মতন ’ক্রিমিনাল মেন্টালিটির’ লোকেদের দলে নেওয়া ঠিক কাজ হয় নি। ওদের দলে নেওয়ার আগে ওদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া উচিত ছিল।তবে সুশান্ত মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলায় এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।এই রাজত্বে অন্যায় কাজ করলে বিজেপি নেতা কর্মীরাও ছাড় পাবেন না ।” বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন,“দলের নাম ভাঙিয়ে কোনও অন্যায় কাজ করা যাবে না। কেউ কোনও অন্যায় কাজ করে থাকলে পুলিশ তো ব্যবস্থা নেবেই ।”
