এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৫ জুলাই : প্রাইভেট পড়ানোর টাকা চাওয়ার অপরাধে শিক্ষিকাকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছেন ছাত্রীর মা। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঘটনা । সিঁথি সীমিতা নামে ওই স্কুলশিক্ষিকার মাথায় ৪টি কোপ বসিয়ে দেয় মোছা. প্রিয়া বেগম (২৫) নামে ওই মহিলা । মাথা আড়াল করতে গিয়ে শিক্ষিকার হাতের ৪টি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে । বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই শিক্ষিকা ।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোছা. প্রিয়া বেগম পানাউল্লাচারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। পরে এই ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলয়মান মিয়ার মেয়ে ও পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মহম্মদ মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গ্রামের শিক্ষার্থীদের টিউশন পড়ান। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো প্রিয়া বেগমের মেয়ে সাফা মনিকে (৪) পড়াতে তার বাড়িতে যান শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা। এই সময় ওই শিক্ষিকা প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া থাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা চান। প্রাইভেট পড়ানো শেষে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর আবার ফেলে আসা ছাতা আনতে প্রিয়ার বাড়িতে যান। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিয়া বেগম দা দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ।আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘আমার ভাবী একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াতে গিয়েছিলেন। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
এ বিষয়ে ভৈরব থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে এসআই আসিবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।।
