জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র অজয় কুমার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন । যেখানে তিনি সিকিমকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতই একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে দেখান । সাংবাদিক সম্মেলনে অজয় কুমার বলেন,’ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এমনভাবে নষ্ট করেছে যে, এমনকি আমাদের ছোট্ট প্রতিবেশী সিকিমও এখন আমাদের চোখ রাঙাচ্ছে ।’
প্রসঙ্গত,অজয় কুমার একজন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার । তিনি টাটা গ্রুপের নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন । এই প্রকার এক ব্যক্তির এহেন মন্তব্য নিছক ভুল নয়, বরঞ্চ কংগ্রেসের মানসিকতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে । জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং নামে এক এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “আর তার কাছে সিকিম ভারতের অংশই নয়, বরং একটি প্রতিবেশী দেশ।এটাই আসলে কংগ্রেসের মানসিকতা। কংগ্রেস ভারতকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে চায়।”
মনিকা ভার্মা লিখেছেন,’নেহেরু সিকিমকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করার ধারণার বিরোধী ছিলেন। মেধাবী ‘র’ প্রধান আর. এন. কাও-কে ধন্যবাদ, যার বদৌলতে নেহেরুর মৃত্যুর পর সিকিমকে চতুরতার সাথে দেশের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। আজও কংগ্রেস সিকিমকে একটি পৃথক দেশ বলে মনে করে। এত চীনপন্থী কেন, বস?’
কাঞ্চন গুপ্তার প্রতিক্রিয়া হল,’হ্যালো অজয় কুমার, শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সিকিম অধিগ্রহণকে মুছে ফেলা আপনার ঠিক হয়নি, যা ১৯৭৫ সালের ১৬ই মে ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়াটি ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের ৩৬তম সংশোধনী গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। জন সংঘ সিকিম অধিগ্রহণকে সমর্থন করেছিল। বামপন্থীরা এর বিরোধিতা করেছিল।’
মেজর সুরিন্দ্র পুনিয়া লিখেছেন,’প্রিয় রাহুল গান্ধী জি, কংগ্রেস দলের মুখপাত্র প্রকাশ্যে সিকিমকে ‘প্রতিবেশী বিদেশী দেশ’ বলে অভিহিত করেছেন। এটি কথার ভুল নয়, বরং কংগ্রেসের সেই ‘টুকড়ে- টুকড়ে’ মানসিকতা যা একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারতকে কখনোই মেনে নিতে পারে না। সিকিম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ । জয় হিন্দ।’
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিপি পান্ডে লিখেছেন, ‘সৌভাগ্যবশত সিকিম এতে রাজি নয়।শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী নিশ্চয়ই ভাবছেন, কংগ্রেসের এই ব্যক্তিটি কে?
১৯৭৫ সালে, যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ গণভোটে সিকিম ভারতে যোগ দেয়, তখন কংগ্রেস কেন্দ্রে ছিল। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি কী ছিলেন? শিক্ষাগত যোগ্যতা? ডিগ্রি কোনো ব্যাপার না।’
সঞ্জীব চন্দা লিখেছেন,’নরেন্দ্র মোদি,অমিত শাহ এই পরিস্থিতিতে অবাক বা হতবাক হবেন না। প্রশ্ন হলো, কংগ্রেস কেন সিকিমকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চায় না। ১৯৬৭ সালের ২০০৮এমওইউ-তে সিকিমকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্লেবয় লেহেরু তখন দৃশ্যপটে ছিলেন না। এই অধ্যায়টি ইতিহাস বই থেকেও বাদ পড়ে গেছে।’
কংগ্রেসের মুখপাত্রের এই প্রকার ন্যাক্কারজনক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজেশ্বর সিং একটা বড়সড় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এক্স-এ । তিনি লিখেছেন, ‘একটি সরকারি সাংবাদিক সম্মেলনে সিকিমকে “বিদেশী দেশ” বলাটা কেবল কথার ভুল নয়, বরং এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে এক গভীর বিচ্ছিন্নতার প্রতিফলন।কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে না দেখে এক দূরবর্তী প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছে। এই ধরনের মন্তব্য কেবল এই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করে যে, তারা আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে কখনও সত্যিকার অর্থে বোঝেনি, সম্মান করেনি বা তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়নি।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ বারবার এই মানসিকতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা দেশ শাসন করতে চায়, তাদের কাছ থেকে এই মানুষগুলো সম্মান, প্রতিনিধিত্ব এবং স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, উপেক্ষা নয়।উত্তর-পূর্বাঞ্চল কোনো গৌণ বিষয় নয়। এটি কোনো পৃথক অঞ্চল নয়। এটি ভারতের পরিচয়, ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রত্যেক ভারতীয় এমন নেতা পাওয়ার যোগ্য, যারা এই বিষয়টি বোঝেন।’।
