এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভোপাল,০৪ জুলাই : মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর দেওয়া অনুদান ফেরত দিতে হবে, অন্যথায় তিনি অযোধ্যায় মামলা করবেন।
মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিগ্বিজয় সিং বলেন, “আমি অযোধ্যায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার দেওয়া অনুদানের অপব্যবহার ও লুটপাট করা হয়েছে। তাই, টাকাটা আমাকে ফেরত দেওয়া হোক যাতে আমি তা রামালয় ট্রাস্টে জমা করতে পারি। আমি পুলিশকে বিশ্বাস করি না। পুলিশ বিজেপির নিয়ন্ত্রণে, তাই আমি থানায় যাব না, আমি আদালতে যাব।”
তিনি বলেন,”রাম মন্দিরের জন্য দু’বার তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালানো হয়েছিল। আমি প্রথমবার দান করেছিলাম এল. কে. আদভানির রথযাত্রার সময়। রাম মন্দির এবং ভগবান রামের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। কিন্তু সেই প্রথম দানটি কখনও আমলে নেওয়া হয়নি। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পর, তহবিল সংগ্রহের অভিযান আবার শুরু করা হয়। এই অভিযানটি শুরু করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। কিন্তু আমি তাদের দান করিনি। কারণ আমি তাদের বিশ্বাস করতাম না। অনুদানের অপব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস তাদের রয়েছে। তাই, আমি সরাসরি ট্রাস্টকে দান করেছিলাম।”
দিগ্বিজয় সিং ব্যাখ্যা করেন,মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ১ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন। তাই তিনি আরও দান করার সিদ্ধান্ত নেন ।তিনি বলেন,”আমি ১,১১,০০০ টাকা দান করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্রাস্টে টাকাটা জমা দেওয়ার জন্য একটি চিঠি লিখেছিলাম । আমরা নিজেরাই টাকাটা জমা দিয়েছি এবং রসিদও পেয়েছি। আমি রামের প্রতি বিশ্বাস এবং একটি বিশাল মন্দির নির্মাণের ইচ্ছা থেকে এই দানটি করেছি। কিন্তু এখন যে অভিযোগগুলো সামনে আসছে তা খুবই উদ্বেগজনক ।”
ট্রাস্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চম্পত রায় মাসিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেতনে কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে দৈনিক অনুদানের ১০ থেকে ২০ শতাংশ গায়েব হয়ে যাচ্ছে। আগেও প্রচুর নগদ টাকা গায়েব হয়ে যেত। ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকাও সামনে এসেছে। এটি ভগবান রামের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ভক্তির ওপর এক বিরাট আঘাত। দিগ্বিজয় সিং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তিনি আদালতে যাবেন এবং তাঁর অনুদান ফেরত দাবি করবেন।।
