প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৮ জুন : তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হল পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নার ‘ত্রাস’ সৈয়দ কালিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পা। তৃণমূল জমানায় রায়না-২ নম্বর ব্লকের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কালিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকার একটি হোটেলে চড়াও হয়ে হোটেল মালিককে মারধর করে দুই লক্ষা টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে । মাধবডিহি থানার পুলিশ শনিবার রাতে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ উপনগরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে । কড়া পুলিশি পাহারায় কোমরে দড়ি পরিয়ে আজ রবিবার তাকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে । রায়না-১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের পর রায়না-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি গ্রেপ্তার হওয়ায় রায়নার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে । এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিন) অভিষেক মণ্ডল বলেন,’সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দ কলিমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে ।’ ধৃতকে এদিন বর্ধমান আদালতে পেশ করে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
জানা গেছে,অভিযোগকারী হোটেল ব্যবসায়ীর নাম রাজু রায় । তাঁর বাড়ি মাধবডিহি থানার অন্তর্গত গোপালপুর গ্রামে । পুলিশের কাছে অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন,২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দু’দিন পর সন্ধ্যায় সৈয়দ কালিমুদ্দিন তার সশস্ত্র দুস্কৃতি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর হোটেলে চড়াও হয়। তারা লোহার রড ও হাঁসুয়া দিয়ে ওইদিন নির্দয়ভাবে তাঁকে মারধর করে। হোটেলের কিছু সম্পত্তিও নষ্ট করে দেয়। এরপর কালিমুদ্দিনরা তাঁর কাছে নগদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। ওইদিন সেই টাকা তিনি দিতে না পারায় পরের দিন ফের তারা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। ওই দিনও তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই দুস্কৃতিরা শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে।পরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালািয়ে তারা কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়।ওইদিন যাওয়ার সময়ে দুস্কৃতিরা তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকিও দিয়ে যায় ।
রাজু রায় বলেন,’এতদিন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাই অত্যাচারিত হয়েও এতদিন ভয়ে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। তৃণমূল জামানার অবসান ঘটার পর মনের জোর পেয়ে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তীতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের উপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে মাধবডিহি থানায় অভিযোগ দায়ের করি ।’
প্রসঙ্গত,বাম আমলে সিপিএমর দূর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল রায়না। ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই রায়নায় ঘাসফুল ফুটলেও তৃণমূলের শিবিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। তার জেরে রায়না-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রথম তৃণমূল সভাপতি শেখ আব্দুল আলিম ওরফে বাবলু ২০১৫ সালে খুন হন
। সেই খুনের ঘটনায় সৈয়দ কলিমুদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছিল । বেশ কিছু দিন জেল খাটার পর সে মুক্তি পায় । কিন্তু এতকিছুর পরেও তৃণমূল কংগ্রেস দল সেই কলিমুদ্দিনকে রায়না-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি করে। বর্তমানে কলিমুদ্দিন রায়না-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন।রাজ্যে পালা বদলের পর এহেন তৃণমূল নেতা সৈয়দ কলিমুদ্দিন গা ঢাকা দেয় । পরে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা রায়নার রাজনৈতিক মহলে তাই তুমুল শোড়গোল ফেলে দিয়েছে।
কলিমুদ্দিনের গ্রেপ্তারি নিয়ে রায়নার বিজেপির বিধায়ক সুভাষ পাত্র এদিন বলেন,’তৃণমূল রাজত্বে গোটা রায়না বিধানসভা এলাকা জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল দুই তূণমূল নেতা বামদেব মণ্ডল এবং সৈয়দ কলিমুদ্দিন । এরা এতদিন বিজেপি নেতা ও কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর সীমাহীন অত্যাচার ও জুলুমবাজি চালিয়ে গিয়েছিল। এমন দুই তৃণমূল
নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় তাই রায়নার মানুষ স্বস্তি পেলেন।’ যদিও তৃণমূল নেতা দেবু টুডু দাবি করেন,’এখন গোটা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।রায়নাতেও তাই হয়েছে ।’।
