এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুম্বাই,২৮ জুন : মহররমের মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণকারী মহম্মদ ফায়াজ প্রেমজিকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে । পুলিশ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউজ-১৮ জানিয়েছে, মিছিলে অংশগ্রহণকারী অন্তত ১৫,০০০ মানুষকে হত্যা করাই ছিল তার লক্ষ্য । শুক্রবার মহররম আশুরার মিছিল চলাকালে সে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধের নামে ক্যাপসুল বিতরণ করে ।
আসলে, এটি ছিল বিষাক্ত জিঙ্ক ফসফাইড, এবং এটি সেবনের পর প্রায় ১১ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজিকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং বর্তমানে সে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে ।
রিপোর্ট অনুযায়ী,ফায়াজ প্রেমজি মহররমের মিছিলে অংশগ্রহণকারী মানুষদের জিঙ্ক ফসফাইড খাইয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। সে এই ক্যাপসুলগুলোকে ‘ব্যথানাশক’ এবং ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী’ বলে বর্ণনা করে মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করতে শুরু করে। যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে, সে ক্যাপসুলগুলো বাতাসে ছুড়ে দিচ্ছিল । তার কাছ থেকে ১৪,৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়।এই সময়ে, একজন ব্যক্তি সেগুলো খেয়ে ফেলে এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। সে ঘন ঘন বমি এবং পেটে তীব্র খিঁচুনি ও প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগতে থাকে। ডিসিপি জয়ন্ত মীনার মতে, অসুস্থকে কাছের একটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে মনে করেন। জিজ্ঞাসাবাদে রোগী ক্যাপসুলগুলো খাওয়ার কথা স্বীকার করে। ডাক্তার পুলিশকে খবর দেন, এরপর পুলিশ ফায়াজ প্রেমজিকে ঘিরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, ফায়াজ শিয়া সম্প্রদায়ের লোক, কিন্তু সে কেন এই বিশাল শিয়া মিছিলকে নিশানা বানাচ্ছিল, তা পুলিশ তদন্ত করছে। মুম্বাইয়ে মহররম উপলক্ষে জেজে ফ্লাইওভার জংশন থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে আরামবাগ কবরস্থান পর্যন্ত যায়, যেখানে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন সমবেত হয় । তবে, ফায়াজ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে ব্যথা উপশমের অছিলায় শারীরিক যন্ত্রণায় কাতর ব্যক্তিদের বিনামূল্যে এই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো দিচ্ছিল।
জানা গেছে, ১১ জন এই ক্যাপসুলগুলো খেয়ে ফেলেছিল । তাদের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটলে মিছিল থেকে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পেয়ে বেঁচে যায় । বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকজনের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে দেখে এক মহিলার ফায়াজের ওপর সন্দেহ হয়। তিনি ক্যাপসুলটি খুলে ভেতরে একটি অদ্ভুত গুঁড়ো দেখতে পান এবং এরপর পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদে সে মিছিলের সঙ্গে জড়িতদের হত্যা করতে চাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সে অনলাইনে ৪০ হাজার খালি ক্যাপসুল ও ৫০ কিলোগ্রাম জিঙ্ক ফসফাইডের অর্ডার দিয়েছিল। জিঙ্ক ফসফাইড বাড়িতে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি একটি বিপজ্জনক কীটনাশকও বটে। এটি খামারেও ব্যবহৃত হয়।অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজি কিছুদিন আগে পুনে থেকে মুম্বাই এসেছিল । সে প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের একটি হোটেলে ওঠে, যেখান থেকে সে ক্যাপসুলগুলো সরবরাহ করে ।
কে এই ফায়াজ প্রেমজি ?
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে ফায়াজ প্রেমজি একজন শিয়া মুসলিম। তিনি বিবিএ ডিগ্রিধারী এবং পুনেতে তার বাবার পেইন্ট কোম্পানি পরিচালনা করেন। তিনি বিবাহিত কিন্তু স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকেন। তার মা ও বোন ইরানে থাকেন। তিনি ২০১৯ সাল থেকে বেশ কয়েকবার ইরান ও ইরাক সফর করেছেন। গত বছরও তিনি দুবার ইরান সফর করেছিলেন। ডিসিপি জয়ন্ত মীনার মতে, তিনি মিছিলকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং মানুষের ক্ষতি করার বিষয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলেছিলেন।
জিঙ্ক ফসফাইড কী?
জিঙ্ক ফসফাইড একটি বিষাক্ত রাসায়নিক। এটি খামার এবং শস্যাগারে ইঁদুর ও পোকামাকড় মারার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরে প্রবেশ করলে ফসফিন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। এই গ্যাস হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্ককে অচল করে দেয়। এর কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে, রোগীদের অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দেরি হলে গ্যাসটি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রোগীকে বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে অভিযুক্তকে মহম্মদ ফায়াজ প্রেমজিকে “প্রাক্তন মুসলিম” বলে চালাতে চাইছে মুসলিম আইটি সেল । আজ রবিবার ওই মুসলিম সংগঠনের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে : “নিরীহ মুসলমানদের গণহত্যার ষড়যন্ত্র করার সময় প্রাক্তন মুসলিম দানব হাতে-নাতে ধরা পড়ল। মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে, ফায়াজ প্রেমজী নামের এক জঘন্য ধর্মত্যাগী বিশ্বাসঘাতক, যে ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তাকে বাইকুল্লা পূর্ব কবরস্থানে হাতেনাতে ধরা হয়। সে ৩০,০০০ ক্যাপসুলে ভরা ৫০ কেজি মারাত্মক জিঙ্ক ফসফাইড দিয়ে আমাদের প্রিয় মহররমের মিছিলকে বিষাক্ত করার চেষ্টা করছিল।ভেতরের এই শত্রু আমাদের ভাই-বোনদের মধ্যে ইঁদুর মারার বিষ মেশানো “ব্যথানাশক” বিলি করছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইমাম হুসাইন (আঃ)-কে স্মরণকারী হাজার হাজার নিরীহ শোকযাত্রীকে হত্যা করা।সে আমাদের পবিত্র রাস্তায় রক্তের নদী বইয়ে দিতে চেয়েছিল! আলহামদুলিল্লাহ, মুম্বাই পুলিশ এই শয়তানি ষড়যন্ত্রকে গণহত্যায় রূপ নেওয়ার আগেই ব্যর্থ করে দিয়েছে।ঘৃণা প্রচারক ও ইসলামবিদ্বেষীদের দ্বারা উগ্রপন্থী হয়ে ওঠা আরও কত প্রাক্তন মুসলিম সাপ আমাদের মধ্যে কিলবিল করে ঘুরে বেড়াচ্ছে?”
