এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৬ জুন : নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের ২৩তম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত ৫ উইকেটের এক বড় জয় পেয়েছে।বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে। বাংলাদেশের পক্ষে জুরিয়া ফিরদৌস ৩৩, শোভনা ২২, নিগার সুলতানা ৩২ এবং শারমিন আখতার ১০ রান করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচে ভারতীয় খেলোয়াড়রা মাত্র ১০ বলে ৪টি ক্যাচ ফেলে দেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ওপেনার ফিরদৌস তিন বার জীবন ফিরে পান। ফলে তিনি ৩৩ রান করেন। ভারতের পক্ষে রাধা যাদব ৩টি, শ্রীচরণি ২টি, এবং রেণুকা শর্মা ও নন্দিনী শর্মা ১টি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্মৃতি মান্ধানা মাত্র ৮ রান করে ক্যাচ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান । এরপর শেফালি ভার্মা ৩৪ বলে ৫৩ রান করে এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ।যাস্তিকা ভাটিয়া (২৩), রিচা ঘোষ (১০), জেমিমা রড্রিগেজ (২৬), অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (অপরাজিত ১৩) এবং দীপ্তি শর্মার (অপরাজিত ৫) ব্যাটিংয়ে ভারত ১৯ বল বাকি থাকতেই ১৩৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত । শেফালি ভার্মাকে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরষ্কার দেওয়া হয় ।
শেফালি ভার্মা বলেন, “আজ আমি যেভাবে ব্যাট করেছি তাতে আমি সত্যিই খুশি। অবশ্যই, অপরাজিত থাকতে পারলে আমি আরও বেশি খুশি হতাম, কিন্তু রান করা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারাটাও ভালো ছিল। ১৩৬ রান তাড়া করার সময় পাওয়ারপ্লেতে আমাদের পরিকল্পনা ছিল সহজ—নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর আস্থা রাখা, যেকোনো আলগা বলকে বাউন্ডারির জন্য আক্রমণ করা এবং অন্যথায় স্ট্রাইক রোটেট করা। অস্বাভাবিক কিছু নয়, শুধু মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলা।”
বাংলাদেশের প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল না, কিন্তু এই মামুলি স্কোরের জন্য দলটি কেবল নিজেদেরই দায়ী করতে পারে। শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই ভালো শুরু করলেও সেগুলোকে বড় স্কোরে পরিণত করতে পারেননি। ভারত শৃঙ্খলার দিক থেকে কিছুটা অগোছালো হলেও এবং ১০ অতিরিক্ত রান দিলেও নিয়মিত বিরতিতে আঘাত হানতে থাকে। রাধা যাদব তিনটি উইকেট নিয়ে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন, অন্যদিকে চরণী দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে তাদের ২০ ওভারে ১৩৬ রানে সীমাবদ্ধ রাখেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা বলেন, “আমরা প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছিলাম কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি, আর সে কারণেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমাদের বোলিং সুশৃঙ্খল ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা ১৫-২০ রানে পিছিয়ে পড়ি। পাওয়ারপ্লে শক্তিশালী ছিল, কিন্তু আমরা সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। ৩৬ বলে ৩৩ রান করার পর বার্তাটা স্পষ্ট ছিল — যদি আমরা সঠিক জায়গায় বল করতে পারতাম এবং সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারত। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে ফেলি। তাৎক্ষণিক সাফল্যই সবসময় মুখ্য নয়; আমার কাছে আসল অর্জন হলো এই দলটিকে দিনে দিনে উন্নতি করতে দেখা। লর্ডসে খেলাটা একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে, এবং আমরা সেখানে স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করার আশা রাখি।”
