এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ জুন : আরজি করের অভয়ার গনধর্ষণ খুনের ঘটনায় একদিকে যেমন প্রমান লোপাটের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ সুপার বিনীত গোয়েল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে,পাশাপাশি অন্যদিকে সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক ঠেকছে সাধারণ মানুষের । বিশেষ করে আরজি করের তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি । তিনি সীমা পাহুজাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি পর্যন্ত তুলেছেন । তবে এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, খোদ কলকাতা হাইকোর্টের কাছেও অত্যন্ত সন্দেহজনক ঠেকছে ।
আজ বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআইকে কার্যত তীব্র ভর্ৎসনা করেন । অভয়ার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এও পর্যন্ত দাবি জানান, সিবিআই যদি তদন্ত করতে না চায় তাহলে এনআইএ, র অথবা সিআইডি-কে মামলা হস্তান্তর করুক আদালত । বিচারপতি সিবিআইয়ের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন,’সিবিআই তদন্তে হস্তান্তরে দেরি এবং তথ্য প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য কারা দায়ী ?’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিবিআইয়ের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেন আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন,’চার্জশিট দাখিল করার পর ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে,এটাও তো একটা অপরাধ। নির্যাতিতার মা-বাবা, বারবার সিবিআইয়ের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং লাস্ট অর্ডারে মহামান্য বিচারপতিরা বলে দিয়েছিলেন, সিবিআই নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের যে বক্তব্য শুনবেন। সেই অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিছু করেনি। প্রায় ১ ঘন্টা ধরে মহামান্য বিচারপতিদের কাছে, তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন সিবিআই। এবং মহামান্য বিচারপতিরা ভরা এজেলাসে এটাও বললেন, আমরা তাহলে কী করব ? সিবিআই যদি তদন্ত করতে না চায়, আমাদের কী করা উচিত, সিবিআই বলে দিক। আগে যে তদন্তকারী অফিসার ছিলেন, সেই কলিগকে বাঁচাবার জন্যই কি , সিবিইআই-র বর্তমান সিট যাদের নিয়ে তৈরি, তাঁরা, সেই কলিগেরই দেখানো পদ্ধতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কী করলেন তাঁরা ? আজকে মহামান্য বিচারপতিরা শুধু নন, আমরা সকলেই একেবারে হতাশ, সিবিআইয়ের তদন্তে..।’ তিনি এও বলেন,’প্রয়োজন হলে সিআইডির হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হোক । সিবিআইয়ের প্রতি আর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই ।’
গত ২১ মে সিবিআইকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আর জি করকাণ্ডে রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই । ঘটনার রাতে খাওয়া- দাওয়া করা থেকে নিহত তরুণী চিকিৎসকের শেষকৃত্য পর্যন্ত কী কী হয়েছিল, ঘটনাক্রম কী ছিল? তা ফের খতিয়ে দেখতে,সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে এসআইটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। তারপর আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেও গেছেন তদন্তকারীরা। এই প্রেক্ষাপটে এদিন আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই । এখন আরজি করের অভয়ার গনধর্ষণ-খুনের মামলার তদন্তভার আদালত যদি সত্যি সত্যিই সিআইডি-এর হাতে তুলে দেয় তাহলে সিবিআইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দেবে । তখন এটাও প্রশ্ন উঠবে যে সাধারণ মানুষের করের টাকায় বিপুল অঙ্কের বেতন দিয়ে ওই তদন্তকারী সংস্থাকে আদপেই পোষার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা ।।
