এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,২৪ জুন : মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেছেন । পাশাপাশি তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এটাও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তারা যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন । আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির ‘হিসাব’ করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী । কিন্তু কে শোনে কার কথা ! পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদীঘির জগদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা স্বরূপ রানাকে নিজেদের পার্টি অফিসে ডেকে এনে বিজেপির লোকজন ২৩ লক্ষ টাকার মুচলেকা আদায় করে বলে অভিযোগ । আর সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে আত্মঘাতী হলেন স্বরূপবাবু । স্বরূপ রানা বর্ধমান-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন খাদ্য ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ এবং বর্তমানে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন।পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর লাগাতার হুমকি, আর্থিক দাবিদাওয়া এবং মানসিক চাপের জেরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন স্বরূপ রানা। ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
মৃতের ভাই শ্যামল রানার অভিযোগ,গত কয়েকদিন ধরেই তার দাদাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর গত ২২ জুন তার দাদাকে স্থানীয় বিজেপি পার্টি অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় । প্রথমে তার দাদার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। পরে ২৩ লক্ষ টাকা সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে তাঁর কাছ থেকে একটি মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়। টাকা না দিলে বাড়ি ভাঙচুর, হামলা এবং পরিবার-সহ গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, ওই ঘটনার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন স্বরূপ রানা। তার জেরে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তিনি বাড়িতে বিষপান করেন । আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । কিন্তু আজ বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন,স্বরূপ রানা অত্যন্ত শান্ত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার বাসিন্দা রীণা ঘোষাল বলেন,স্বরূপবাবু খুবই ভদ্র ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না ।
যদিও এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার সাউ বলেন,’এই ধরনের ঘটনা কখনও কাম্য নয়। তিনি দু’বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমরা পরিবারের পাশে আছি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।’ অভিযোগের বিষয়ে আগেই কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি ।অন্যদিকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দেবু টুডু বলেন, পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। যে দলেরই হোক । দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ৷।
