এইদিন ওয়েবডেস্ক,পুনে,২৩ জুন : মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র লোহাগড় দুর্গে ১৮ই জুন মৃত অবস্থায় পাওয়া ২৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালের রহস্যজনক মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ছিল না। চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল।
প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলা হয়েছিল। তবে, পুলিশি তদন্তে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রকাশ পায় এবং এই ঘটনায় পুলিশ পুনের ওই তরুনী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে।
১৮ই জুন পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গে ৪০০ ফুট গভীর একটি গিরিখাতে পড়ে কেতন বিশাল আগরওয়াল মারা যান। সে সময় তাঁর বাগদত্তা ও বিয়ের প্রস্তুতিতে থাকা সিয়া গোয়েল জানিয়েছিলেন যে, পিকনিকের সময় ছবি তুলতে গিয়ে তিনি পিছলে পড়ে যান। পুলিশ মামলাটিকে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল।
কিন্তু তদন্তকারীরা এখন নিশ্চিত করেছেন যে এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ছিল না, বরং একটি হত্যাকাণ্ড এবং কেতনকে তার হবু স্ত্রী ও তার প্রেমিক উপত্যকায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল।
কেতন ও সিয়ার বিয়েতে খরচ ছিল ১৭ কোটি টাকা এবং জয়পুরের প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের আনার জন্য দুটি ব্যক্তিগত বিমানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, নভেম্বরে বিয়েটি একটি জমকালো অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু অনিচ্ছুক কনে তার প্রেমিকের সাথে মিলে তার হবু স্বামীকে একটি খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করে ।পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, “আমাদের দল আর্থিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কসহ একাধিক দিক থেকে তদন্ত করেছে। তদন্ত চলাকালে জানা যায় যে, গোয়াল পুনের কোন্ধওয়ার বাসিন্দা চেতন বাবুলাল চৌধুরী (২২) নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন ।”
জানা গেছে,সিয়া গোয়েলের জন্মদিন ছিল ১৯শে জুন। এর আগের দিন, অর্থাৎ ১৮ই জুন সকালে, কেতন ও সিয়া তার হবু স্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন এবং প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে খবর এসেছিল যে, সকাল প্রায় সাড়ে দশটায় দুর্গের চূড়ায় ছবি তোলার সময় প্রবল বাতাসের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে কেতন ৪০০ ফুট গভীর একটি খাদে পড়ে মারা যান। পুলিশও একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছিল।
কিন্তু লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশের তদন্ত চলাকালে মামলাটি নিয়ে অনেক সন্দেহ দেখা দেয়। মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের জবানবন্দি নেওয়ার পর পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাকে ও তার প্রেমিককে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারীদের মতে, জানা গেছে যে কেতনের হবু স্ত্রী সিয়া এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী একসঙ্গে কেতনকে এক গভীর খাদে ঠেলে দিয়েছিল। এই অভিযুক্তদের অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে ।।
