এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ জুন : তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) চলমান অভ্যন্তরীণ বিবাদ সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) একটি বড় রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে । দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে যে তারা মমতা ব্যানার্জীকে দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীকে দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।এই সিদ্ধান্তটি যৌথভাবে নিয়েছেন ঋতব্রত ব্যানার্জী গোষ্ঠীর ৬০ জন বিধায়ক।
বিদ্রোহী নেতারা সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব ও পুনর্গঠনের ঘোষণাও করেছে । বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার পর, বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদেরকে ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ ঘোষণা করে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পাস করে।
গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে তারা হাওড়া সেন্ট্রালের প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে নতুন সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছে এবং তাঁকে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের পাশাপাশি কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) এবং তিনটি জেলার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, দলের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করার কথা, কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরেও সাংগঠনিক পুনর্গঠন করা হয়নি। ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং দলের সাংবিধানিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
দাবি করা হচ্ছে যে, ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও এই নতুন গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সবকিছু দলের সংবিধান অনুযায়ীই করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দলের সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে যে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সাল থেকে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।উদ্ধব ঠাকরে এবং শারদ পাওয়ারের পর মমতা ব্যানার্জী হলেন তৃতীয় প্রধান নেতা যিনি দল হারালেন।।
