এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ মে : শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের পশুহত্যায় কড়াকড়ি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী দলগুলি । তাদের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন পার্টির (সিপিআই-এমএল) পশ্চিমবঙ্গ শাখা রাজ্য সরকারের এই নির্দেশে এতটাই কষ্ট পেয়েছে যে ইতিমধ্যে তারা কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের উপর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে । তবে কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও এই বিষয়ে পিছিয়ে নেই । রাজ্য সরকারের এই নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটা পিটিশন দাখিল করেছেন তিনি । মহুয়া এনিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন,’ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৯৫১ সালের পশু জবাই আইনের ১২ ধারায় অব্যাহতি চেয়ে বিধায়ক জনাব আখরুর যাম্মানের মাধ্যমে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের আদেশের কারণে মুসলিমদের পাশাপাশি দুগ্ধ, পশুপালন ও ব্যবসার সাথে জড়িত বিপুল সংখ্যক হিন্দু অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছেন।’
তিনি জানান যে, ১৩ই মে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে—যেখানে গবাদি পশু পালনকারী ও ব্যবসায়ীদের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল—তিনি বিধায়ক আক্রুজ্জামানের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘পশ্চিমবঙ্গ গবাদি পশু নিধন নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রত্যাহারেত দাবি জানিয়েছেন ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহুয়া বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৩ই মে-র ওই বিজ্ঞপ্তিটি কেবল বকরি ঈদ পালনকারী মুসলিমদেরই প্রভাবিত করবে না, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও—বিশেষ করে সেইসব মানুষকে—প্রভাবিত করবে যাদের জীবিকা গবাদি পশু পালনের ওপর নির্ভরশীল।
এই পিটিশনের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের ‘প্রাণী জবাই আইন’-এর ১২ ধারার অধীনে একটি ছাড় বা অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে; যা গত ১৩ই মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির সাথে সম্পর্কিত। যেহেতু ঈদুল আজহা উৎসব আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং হাতে সময় অত্যন্ত সীমিত, তাই পিটিশনে ১২ ধারার অধীনে এই ছাড়ের আবেদন জানানো হয়েছে—কারণ সরকার চাইলে এহেন অব্যাহতি প্রদান করতে পারে। এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো, ‘বাকরি ঈদ’ উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক আয়োজন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যেন বিশেষ ছাড়ের অনুমতি প্রদান করা হয়।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন তৃণমূলের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আক্রুজ্জামান; শুনানিকালে মহুয়া মৈত্রও উপস্থিত ছিলেন।
এই আইনি চ্যালেঞ্জটি ১৩ই মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত হয়েছিল; ওই বিজ্ঞপ্তিতে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর কিংবা পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ জবাই করার পূর্বে একটি ‘শারীরিক সক্ষমতার সনদ’ (fit certificate) থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই সনদটি কেবল কোনো পৌরসভার চেয়ারম্যান অথবা কোনো পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দ্বারা—সাথে একজন সরকারি পশুচিকিৎসককে রেখে—প্রদান করা যাবে।
উক্ত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেবল ১৪ বছরের অধিক বয়সী প্রাণী অথবা আঘাত, শারীরিক বিকৃতি, বার্ধক্য কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়া প্রাণীদেরই জবাই করার অনুমতি ছিল।আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে প্রাথমিক শুনানির জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।।
