এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ মে : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,’ডিটেক্ট- ডিলিট হয়েছে, এবার ডিপোর্ট ।’ তবে ধর্মীয় কারনে নিপিড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা হিন্দু,বৌদ্ধ,জৈন, শিখ,খ্রিস্টান ও পার্সিসহ এই আইনে বর্ণিত সাতটি সংজ্ঞায়িত সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়বে না, অর্থাৎ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ বুধবার মূখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার তা কার্যকর করেনি। এখন আমরা রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আইন কার্যকর করছি।’
তিনি আরও জানান, ‘সিএএ অনুযায়ী – হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুলিশ আটক করতে পারবে না। কিন্তু যাঁরা এই আইনের আওতায় পড়েন না, তাঁরা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করবে।’
শুভেন্দু জানান, রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন থানাগুলোতে আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘আমরা বিএসএফ-এর সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে রাজ্য ও দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করব। যাঁরা বৈধ নথি ছাড়া দেশে প্রবেশ করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার প্রয়োজনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে’।
সিএএ-এর মূল উদ্দেশ্য হলো, আইনের আওতায় ধর্মীয় নিপীড়নের কারনে সাতটি সম্প্রদায়ের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান ও ড্রুজ) মানুষ শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা প্রযোজ্য। তবে অন্য সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ এবং বিএসএফকে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করেছে আইন।
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘গত বছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের পূর্ববর্তী সরকার শরণার্থীদের সিএএ-র সুবিধা দিতে রাজি হয়নি, আবার এই গুরুত্বপূর্ণ আইনও কার্যকর করেনি। এখন আমরা এই দায়িত্ব নিয়েছি। রাজ্যের স্বার্থে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলছেন, এই আইন কার্যকর করার মাধ্যমে রাজ্য ও দেশের সীমান্ত নিরাপদ হবে। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যাবে। সরকারের লক্ষ্য, আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে যাঁরা শরণার্থী হিসেবে আসছেন, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং যাঁরা অবৈধভাবে প্রবেশ করছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানো।
আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা অনুযায়ী রাজ্য পুলিশকে প্রয়োজনে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্ত সংলগ্ন সব থানায় নজরদারি জোরদার করা হবে এবং বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা হবে।।
