এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ মে : আজ সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছিল। স্বাভাবিকভাবেই আজকের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।তাদের হতাশ করেননি রাজ্য সরকার৷ রাজ্যে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তমতম রাজ্য বেতন কমিশনের গঠন করা হল ।’
প্রসঙ্গত,সাধারণত ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিপুল অঙ্কের ডিএ দিয়ে যাননি । তবে রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়েও হিসেবনিকেশ শুরু হয়ে গেছে । কারণ, পে কমিশনের কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এ বিস্তর পার্থক্য । কেন্দ্র ও রাজ্যের সামঞ্জস্য রাখলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থাকবে ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে। ফলে রাজ্য সরকারের কর্মীদের বেসিক এক ধাক্কায় প্রায় ৩ গুণ বেড়ে যাবে । স্বভাবতই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে এখন খুশির আবহ ।
নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন চালুর আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি । আজ মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এদিনের মেগা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। এছাড়াও প্রশাসনিক স্তর থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল ।।
