এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ মে : পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন । আসলে আজ শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনের শুরুতেই প্রথমবারের মতো বিধানসভা কক্ষের কাজ শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি ও গানের মাধ্যমে । যা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল বিধায়করা । তাদের দাবি যে বন্দেমাতরমের ষষ্ঠ স্তবকে নাকি মূর্তিপুজোর উল্লেখ আছে। বিজেপির বিধায়করা ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগানে কক্ষ মুখরিত করেন। পালটা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয় তৃণমূল । এরপরেই বিজেপি বিধায়করা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ এবং ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পালটা সিএস (CS) এবং প্রশাসনের একাংশকে ব্যবহার করে ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ তুলে সুর চড়ায় তৃণমূল বিধায়করা। চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা একযোগে কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাতীয় সংগীত যথাযথভাবে গাওয়া হয়নি। পরে অবশ্য ওয়াকআউটের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা পুনরায় কক্ষে ফিরে আসেন।
ফলে স্পিকার বা অধ্যক্ষ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, তখন বিধানসভা ছিল বিরোধীশূন্য । নতুন স্পিকার হিসেবে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নাম ঘোষণা হতেই হাততালিতে ফেটে পড়ে বিজেপি বিধায়করা । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাকে হাত ধরে স্পিকারের চেয়ারের কাছে নিয়ে যান। চেয়ার ছেড়ে দেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। তাঁকে আলিঙ্গন করে স্পিকারের চেয়ার গ্রহণ করেন রথীন্দ্রনাথ। শেষমেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে) ১৮তম বিধানসভার অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ বসু। একে একে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন স্পিকার বিমান ব্যানার্জি, তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চ্যাটার্জি ও ফিরহাদ হাকিমরা ।।
