এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১৪ মে : ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল মান্দানা করিমি (Mandana Karimi) ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির’ কথা উল্লেখ করে ভারত ছেড়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আর নিজেকে নিরাপদ বোধ করছেন না এবং বলেছেন যে দেশটিকে আর বাড়ির মতো মনে হয় না। তিনি আরও বলেন, তাঁর অব্যাহত সক্রিয়তা এবং স্পষ্টবাদী মতামত এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে । কিন্তু বাস্তবতা হল ইরানের ইসলামি শাসকের অত্যাচারে ভারতে পালিয়ে এসে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারতেরই বিরোধিতা শুরু করেছিলেন । যেকারণে তাকে প্রবল।সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
মন্দানা মূলত ইরানের বাসিন্দা । ১৯৮৮ সালের ১৯ মে তেহরানে এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং মা ইরানি। তার পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের শুরু ইরানেই । ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি এয়ার হোস্টেস ছিলেন। পরবর্তীতে আলি খোমেনির অত্যাচারে আন্তর্জাতিক মডেলিং ছেড়ে ২০১০ সালে ভারতে পাড়ি জমান। মান্দানা করিমি ২০১০ সালের দিকে ভারতে মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরে চলচ্চিত্র, টিভি শো-তে অভিনয় করেন ও বিগ বসেও অংশগ্রহণ করেন।
মান্দানা করিমি অতীতে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও সোশাল মিডিয়া পোস্টের কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তাঁর করা প্রধান বিতর্কগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা ।
পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতিক্রিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেন মান্দানা করিমি। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযানটি পরিচালনা করেছিল। কিন্তু করিমির এক্স-এ একটি পোস্টে এই অভিযানের সমালোচনা করেন, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তোলেন এবং বৈশ্বিক সামরিক অভিযানগুলোকে “সাম্রাজ্যবাদ” ও “হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ”-এর মতো শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেন। এই মন্তব্যের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেক ব্যবহারকারী তাকে জাতীয় অনুভূতির প্রতি অসংবেদনশীল বলে অভিযুক্ত করেন। এমনকি কেউ কেউ তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান।
ব্যাপক সমালোচনার পর, কারিমি একটি স্পষ্টীকরণ জারি করে জানান যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শান্তির পক্ষে কথা বলা এবং তিনি ভারতকে সম্মান করেন। পরে তিনি পোস্টটি পুরোপুরি মুছে ফেলেন।যদিও বিতর্কটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল, তবে এটি তার জনপরিচিতির ক্ষেত্রে একটি নির্ধারক মুহূর্ত হয়েই থেকে যায়। এখন, তার ভারত ত্যাগ সংবাদ শিরোনামে আসায়, আগের সেই ঘটনাটি আবার সামনে এসেছে, যা তার মতামত ও সিদ্ধান্তগুলোকে পুনরায় সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য,২০১৫ সালে ‘ভাগ জনি’ (Bhaag Johnny) সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক ঘটে করিমির । এরপর তিনি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’ (Bigg Boss 9)-এ একজন প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে রানার-আপ হন। এছাড়াও তিনি ‘ক্যা কুল হ্যায় হম ৩’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিগ বসের পাশাপাশি তিনি ‘লক আপ’ (Lock Upp)-এর মতো বিভিন্ন রিয়েলিটি শো-তেও নজর কেড়েছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়, তবে পরবর্তীতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে । আর বিচ্ছেদের পরেই মন্দানা করিমী তাঁর স্বামী গৌরব গুপ্ত ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা এবং জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ দায়ের করে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেন ।
তার আগে ইরানি শাসন ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে অভিনেতা বোমান ইরানি একটি ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করলে, মান্দানা তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন। মান্দানা প্রশ্ন তোলেন যে, যখন ইরানিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছিল বা হত্যা করা হচ্ছিল, তখন কেন এই তারকারা চুপ ছিলেন ? যানিয়েও জলঘোলা হয় । আসলে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের কারনে মান্দানা করিমির কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ে । ক্রমশ কাজ সীমিত হয়ে যাওয়ায় তিনি ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির’ কথা উল্লেখ করে ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য।হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে । বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন এই অভিনেত্রী ।।
