প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৩ মে : ভোল বদলে ফেললেন বিভানসভা ভোটের সময় নিজেকে ’হেভি ওয়েট’ প্রার্থী বলে দাবি করা তৃণমূল নেতা। বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর তিনি বলছেন, “আমিও এখন বিজেপি নেতা“। সদ্য প্রাক্তন হওয়া বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের এহেন বক্তব্যের অডিয়ো ভাইরাল হতেই বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তুমুল হইচই পড়ে গিয়েছে। খোকন দাসের ওই কথোপকথন সমাজমাধ্যমে ‘পোস্ট’ করে বিজেপি নেতারাও তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিজেপির দাবি, ফোনে চমকানোর জন্যেই খোকন বিজেপির নাম নিয়েছে। যদিও খোকন দাসের সাফাই এইসব “ভুল ব্যাখা করা হচ্ছে। আমি বিজেপির কেউ নই। আমি বিজেপি নেতা, এ কথা বলতেই পারি না।”
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ,বর্ধমানের কাঞ্চননগরে দুর্গামন্দিরের কাজ করিয়ে নেওয়ার পরেও মিস্ত্রিকে টাকা দেওয়া হচ্ছিল না।ওই মিস্ত্রি শুভ নামে একজনের কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলেন । আর সে কারণেই খোকন ফোনে ওই মিস্ত্রিকে ধমকিয়েছেন, চমকিয়েছেন। ভাইরাল-অডিয়োতে খোকনের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে, ”উল্টোপাল্টা বলে লোককে হুমকি দিচ্ছিস। আমি কিন্তু বড়বাবুকে বলে এফআইআর করাব।…তোর মন্দিরের হিসেব নিয়ে তোকে বলেছিলাম, আরও কিছু টাকা পয়সা দেব। কালীবাড়ির তুই কী টাকা পাবি?“ এর উত্তরে উল্টো দিক থেকে একজন বলছেন, ছোট দুর্গামন্দিরের জন্যে একটা টাকাও মেলেনি।’
এর উত্তরে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, ’হিসেব হলে পাবি। ওটা ট্রাস্টের ব্যাপার রে। ওটা কেউ নিতে পারবে না। তোর কী টাকার কথা এত দিনে মনে পড়ল। ভোটের হেরে গিয়েছি, তাই। তৃণমূলের হেরে যাওয়ার সঙ্গে কালীবাড়ির কী আছে।…তোকে কী আমাদের ঠকানোর ইচ্ছা নাকি, ওটা কী খোকন দাসের বাপের সম্পত্তি। তুই এখন সুযোগ পেয়ে লোককে চমকাচ্ছিস। আমরা কী বাড়িঘর ছেড়ে চলে গিয়েছি। আমরা কী এখানে থাকব না?”ওই ভাইরাল অডিয়োর শেষে খোকন দাসকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘তুই বিশাল নেতা হয়ে গিয়েছিস নাকি। শোন আমিও বিজেপি নেতা এখন, সেটা নিয়ে ভাবিস না’।
এ নিয়ে জেলা বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র কল্যাণ মাজির দাবি,’একজন রাজমিস্ত্রিকে হুমকি দিচ্ছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি বলছেন, বড়বাবুকে বলে এফআইআর করাবেন। ওই প্রাক্তন বিধায়ক এখনও ভাবছেন,ক্ষমতায় রয়েছেন, সে কারণে হঠাৎ করে তিনি নিজেকে বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দিয়ে ফেললেন!’ কল্যাণের হুঁশিয়ারি,’ওই অডিয়োতেই স্পষ্ট হয়েছে খোকন দাসের ধমকানো চমকানোর মনোভাব। একই সঙ্গে কল্যাণ মাজি প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসকে উদ্দেশ্য করে এও বলেন,’আপনি সর্তক হয়ে যান। সাধারন মানুষ আপনাদের অপকর্মের হিসাব নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। আমাদের নেতারা সংযম, ধৈর্য্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই দলের কর্মীরা সংযম দেখাচ্ছেন। ভাববেন না, বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়েছে।’
এই প্রসঙ্গে খোকন দাস জানান,অডিয়ো ভাইরাল করে বিজেপি ভুল ব্যাখা দিচ্ছে। তিনি কোথাও কাউকে চমকাননি। একজন নিরীহ লোককে কেন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেটাই তিনি জানতে চেয়েছিলেন। খোকন আরো বলেন,কঙ্কালীতলা মন্দিরের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সে জন্যেই পুলিশকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। ওই রাজমিস্ত্রি হিসাব দেয়নি, তাই ট্রাস্ট টাকা দেয়নি।।
