১৬০০ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়লেন এক নারী। ওই নারী এমন এক রোগে ভুগছিলেন যা দিনে ২৪ ঘণ্টা “অবিরাম দুধ উৎপাদন” হত । ফলে তিনি চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন । সেই হতাশা কাটিয়ে অবশেষে “হাজার হাজার শিশুর জীবন” বাঁচানোর এক মহৎ উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন । তবে ওই নারীর ক্ষেত্রে এটা ঈশ্বরের দান নয়। এটা এক ভয়াবহ অসুস্থতা।
কাহিনীটি হল, যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের বাসিন্দা এলিজাবেথ অ্যান্ডারসন-সিয়েরা তার প্রথম সন্তানের জন্মের পর “প্রোল্যাকটিন হাইপারসিক্রেশন সিনড্রোম”-এ আক্রান্ত হন। তার পিটুইটারি গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ায় বুকের দুধ উৎপাদনকারী হরমোন (প্রোল্যাকটিন) অস্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত হতে শুরু করে।
আর নিঃসৃত দুধের পরিমাণ ছিল অকল্পনীয়। তাকে দিনে ৮ থেকে ১০ বার, প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুধ বের করতে হতো, নাহলে তিনি মাস্টাইটিস এবং ফোঁড়ার মতো তীব্র ব্যথায় ভুগতেন। তাকে প্রতি মাসে নতুন অন্তর্বাস কিনতে হতো, একাধিক ফ্রিজার ভর্তি করে রাখতে হতো এবং বিদ্যুৎ ও সংরক্ষণের ব্যাগের জন্য প্রতি মাসে শত শত ডলার খরচ করতে হতো। তবে, তিনি এই ভয়াবহ অবস্থাকে “হতাশায়” পর্যবসিত হতে দেননি। তিনি এযাবৎ মোট যে পরিমাণ বুকের দুধ দান করেছেন, তা এক বিস্ময়কর পরিমান…. ১০,০০০ লিটার বা তারও বেশি। এর মধ্যে, ১,৫৯৯.৬৮ লিটার ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়িত দান, যা তাকে “বিশ্বের বৃহত্তম একক বুকের দুধ দাতা” হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে দিয়েছে।
তার বুকের দুধ এমন সব মায়েদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় যারা নিজেরা দুধ উৎপাদন করতে পারেন না এবং পুষ্টির প্রয়োজনে থাকা অতি অপরিণত শিশুদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়, যা হাজার হাজার শিশুর জীবন বাঁচায়।
তিনি এখন একটি “ভ্রাম্যমাণ বুকের দুধ সংগ্রহের পদ্ধতি” প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা তাকে বাইরে থাকাকালীন, ডিজনি ওয়ার্ল্ডে, এমনকি সিনেমা হলে বসেও দুধ সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেয়। নিজের অবস্থাকে একটি “অসুস্থতা” হিসেবে স্বীকার করলেও, এলিজাবেথ অ্যান্ডারসন বুকের দুধ ব্যাংকের গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।।
