এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৬ মে : কংগ্রেস- বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ প্রায় আট দশক পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে জোর করে ‘সেকুলারিজমের টনিক’ খাওয়ানো হয়েছে । মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের জন্য পূর্ববর্তী শাসকদলগুলি ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতার নামে প্রতিমুহূর্তে রাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অধিকারকে ক্ষুন্ন করে এসেছে । যেকারণে রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশের মানুষের মনে ছিল চাপা ক্ষোভ । এতদিন সেই ক্ষোভকে শাসনযন্ত্র ব্যবহার করে দমিয়ে রাখা হয়েছিল । কিন্তু সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৬-এর বিধানসভার ভোটে । হিন্দু ভোটব্যাংকের মেরুকরণে তথাকথিত ‘সেকুলার’ তৃণমূল কংগ্রেসের তাসের ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে । কার্যত গোটা রাজ্য জুড়ে উঠেছে ‘গেরুয়া ঝড়’ । আর এই ‘ঝড়’ দেখে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা এখন প্রমাদ গুনছেন । তাদের কেউ কেউ এখন নিজেদের ‘সেকুলার তকমা’ ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন । এই তালিকায় নবতম সংযোজন হলে ‘নও মুসলিম’ বাংলা গায়ক কবীর সুমন (Kabir Suman)। তবে তিনি কথিত সেকুলারিজম ত্যাগ করার কথা বলেননি । বরঞ্চ নিজেকে বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তৃণমূলের ‘ছাপ মুক্ত’ হওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেছেন ।
যে কবীর সুমনকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল,আজ তাকেই বলতে শোনা যাচ্ছে : “আমি তো তৃণমূলপন্থী নই” । অথচ যাদবপুর আসনে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমনকে বারবার ‘হিন্দুত্ববাদী’ বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। বিগত দেড় দশক ধরে বঙ্গবাসী তৃণমূল আর কবীর সুমনকে সমার্থক শব্দ বলে মনে করে এসেছে । কিন্তু আজতকের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে তিনি এখন বলছেন,’আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিল । তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না । আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি ।’ এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সমালোচনাও করতে দেখা গেছে এই ‘নও মুসলিম’ বাংলা সঙ্গীতশিল্পীকে । তিনি বলেছেন, ‘মমতা ব্যানার্জি কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন।’
তবে আরজি করের ঘটনার পরেও কবীর সুমন মনে করছেন যে ‘তৃণমূলের আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত ছিল’ । পাশাপাশি তিনি বামপন্থী আদর্শের প্রতি নিজের অনুরাগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন । তিনি বলেছেন,’এখনও ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব। তবে সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব ।’।
এই সেই কবীর সুমন,যিনি ওয়াকফ সংশোধনী বিল-এর তীব্র বিরোধিতা করেন । তিনি বলেছিলেন, এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপের একটি প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাঙালি, হিন্দু এবং হিন্দুদের দেবতা রামকে অপমান করার অভিযোগে মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ । পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৃণমূলের একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, ‘হিন্দি-হিন্দুত্ববাদকে রুখতে হবে ।’।
