এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),০২ মে : একটা মুরগির চারটে পা ! আপাতভাবে আজব মনে হলেও এমনই একটি মুরগির সন্ধান পাওয়া গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে ৷ কেতুগ্রাম থানার নিরোল গালগাছা পাড়ায় একজন ব্রয়লার মুরগির মাংস বিক্রেতার কাছে চারটি পা বিশিষ্ট মুরগির দেখা মিলেছে । বিষয়টি জানাজানি হতেই তোলপাড় পড়ে গেছে এলাকায় । অনেকে অদ্ভুত দর্শন মুরগিটি দেখতে ওই ব্যবসায়ীর দোকানে ভিড় জানিয়েছেন ।
জানা গেছে,নিরোল গ্রামের বাসিন্দা জিৎ মাঝি নামে এক যুবক আজ সকালে ব্রয়লার মুরগির মাংস কিনতে গিয়েছিলেন । তখন নিরোল গালগাছা পাড়ার ওই মাংস বিক্রেতা খাঁচা থেকে একটি মুরগি বের করেন ৷ জিৎ বলেন,’হঠাৎ আমার নজরে পড়ে যে মুরগিটির ডানার ঠিক নিচেই দুটি মূল পা থাকলেও, পিছনের দিকে আরও দুটি পা রয়েছে । এটা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই । দোকানদারও বিস্মিত হন । যেকারণে মুরগীটি না কেটে আলাদা করে রেখে দেওয়া হয় ।’
এদিকে ঘটনার কথা চাওড় হতেই প্রচুর লোকজন মুরগীটি দেখতে ভিড় জমায় । মুরগিটিকে ছেড়ে দেওয়া হলে দেখা যায় যে মূলত সামনের তুলনামূলক ভাবে বলিষ্ঠ দুটি পা দিয়েও হাঁটাচলা করছে৷ তখন সামনের দিকে ভাঁজ করা থাকছে পিছনের পা’দুটি । অনেকে বিষয়টি অলৌকিক বলে মন্তব্য করেন । যদিও পশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে,বিরল জন্মগত ত্রুটির কারনেই অতিরিক্ত পা বিশিষ্ট মুরগির জন্ম হয় । যাকে বৈজ্ঞানিক ভাবে পলিমেলিয়া (Polymelia) বলা হয় । অনেক সময় যমজ ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে দুটি আলাদা ছানা তৈরির পরিবর্তে একটি ছানার শরীরেই অতিরিক্ত অঙ্গ তৈরি হয় । ডিএনএ (DNA) তে কোনো ধরনের হঠাৎ পরিবর্তন বা মিউটেশনের কারণে ভ্রূণের বিকাশে অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে বলে জানান তারা ।বিশেষজ্ঞরা জানান,ডিম ফোটার সময় (Incubation period) যদি ভ্রূণটি কোনো ধরনের রাসায়নিক, সংক্রমণ বা চরম তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসে, তবে এই ধরনের শারীরিক বিকৃতি দেখা দিতে পারে ।।
