প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২২ এপ্রিল : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত করতে নানান বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই মতোই ভোটের ময়দানে নামানো হয়েছে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে। এলাকায় রুটমার্চ করা ছাড়াও ’সাঁজোয়া গাড়ি’ নিনে কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন বঙ্গের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এত কিছু সত্ত্বেও আক্রন্ত হওয়ার আশঙ্কা পিছু তাড়া করে বেড়াচ্ছিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদারকে। তাই মহারাষ্ট্রা থেকে চারজন “বাউন্সারকে’’ আনিয়ে তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এখন ভোটের প্রচারে বের হচ্ছেন । নির্বাচন কমিশনের সমস্ত ব্যবস্থাপনাকে বিজেপি প্রার্থীর এইভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার ঘটনা ভোটমুখী বঙ্গে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার এখন যেখানেই ভোটের প্রাচারে যাচ্ছেন সখানেই তাঁর সঙ্গে থাকছে কালো পোষাক পরিহিত চার সুঠামদেহী বাউন্সার। তাদের মাঝে পুলিশের একজন কনস্টেবলকেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কেন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী অর্থাৎ বাউন্সার নিতে হল !তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অরুণ হালদার বলেন,“তৃণমূলী দানবদের বিরুদ্ধে আমি লড়ছি। ওদের বিশ্বাস করা যায় না। ওরা যে কোনও সময় কিছু একটা ঘটাতে পারে। এমন ঘটনা পশ্চিমবাংলায় বহু ঘটেছে।তাই আমার নিরাপত্তার জন্য আমাকে চারজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিতে হয়েছে।তারা মহারাষ্ট্র থেকে এসেছে।যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার যোগ্যতা তাদের রয়েছে। তারা কাশ্মীরেও কাজ করেছে বলে অরুণ হালদার দাবি করেছেন ।
তিনি এও বলেন,ভারত সরকারের টাকায় এবং ভারত সরকারের সহায়তায় আমি বাংলাদেশে মন্দির বানিয়েছি। ওই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমার নাম লেখা আছে।সেই কারণে জেহাদীদের টার্গেট আমার ওপর আছে। এছাড়াও আমি সাংবিধানিক পদে থাকাকালীন আমাকে অনেক ’চ্যালেনজিং’ কাজ করতে হয়েছিল সেই সমস্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে গিয়ে আমি বহু লোকের শত্রু হয়ে গিয়েছি। তারপর হঠাৎ করে আমাকে ডাইরেক্ট পলিটিক্সে নামিয়ে দেয়া হলো। যেখানে প্রতিদিনের একটা সংঘর্ষ থাকে। সেই ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আমি চিন্তা করে দেখলাম নিরাপত্তা রক্ষী বিহীন অবস্থায় আমার থাকাটা সঠিক কাজ হবে না। তাই আমি ওই চারজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীকে আমার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের ঘোরারও অনুমতি দিয়েছি। সেন্ট্রাল সিকিউরিটির জন্যেও আমি অনেক জায়গায় লিখেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ আসেনি।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জামালপুরের বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন,’পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এখানে দলদাসে পরিণত হয়ে গেছে। সেই বিষয়টা সবাই জানে। নির্বাচনের সময় তারা দেখায় তারা নিউট্রাল আছে। কিন্তু বাস্তবে তারা কখনো নিউট্রাল হতে পারবে না।তাই আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছ থেকে সেফটি সিকিউরিটি বা নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রের ব্যাপারে বিশেষ কিছু আশা করি না।’
নির্বাচন কমিশনের প্রতিও নানা অসন্তোষের কথা ব্যক্ত করেছেন অরুণ হালদার। কোন কাখঢাক না রেখে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,’আমি নির্বাচন কমিশনকে লিখিত ভাবে জানিয়ে ছিলাম। তার পরেও পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের পরিবর্তন হল না।পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার সহ জামালপুরের বিডিও এবং ওসি চেঞ্জ না হওয়া নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন
,অন্যসব জায়গায় তো বদল হয়ে গেল। নিরপেক্ষ নির্বাচন করানোর স্বার্থে এদেরতো পরিবর্তন করা উচিত।বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদারের এইসব দাবি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন,বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক ভাবে ভাড়াকরা চারজন বাউন্সারকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের প্রচারে বের হচ্ছেন।এটা বাংলার কৃষ্টি , সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। এখানেতো প্রশাসন আছে ,নির্বাচন কমিশন আছে ।গোটা বাংলার আইন ,প্রশাসন সবইতো এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। তার পরেও বিজেপি প্রার্থীর বাউন্সার নিয়ে ঘোরাটা ভীষণ লজ্জার। এইসব উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশে হয়।তৃণমূল কংগ্রসের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলে দেবু টুডু জানিয়েছেন।।
