অষ্টবক্র গীতার পঞ্চম অধ্যায়টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যেখানে মাত্র ৪টি শ্লোকের মাধ্যমে ঋষি অষ্টবক্র রাজর্ষি জনককে ‘অসঙ্গ’ বা নির্লিপ্ত আত্মার স্বরূপ এবং জগত যে এক অদ্বৈত বা অখণ্ড সত্তা, তা বুঝতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অধ্যায়ে অদ্বৈতবাদী দর্শনের আলোকে জগতকে কেবল “মায়া” বা ভ্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অষ্টাবক্র উবাচ ॥
ন তে সংগোঽস্তি কেনাপি কিং শুদ্ধস্ত্যক্তুমিচ্ছসি ।
সংঘাতবিলয়ং কুর্বন্নেবমেব লয়ং ব্রজ ॥ 5-1॥
উদেতি ভবতো বিশ্বং বারিধেরিব বুদ্বুদঃ ।
ইতি জ্ঞাত্বৈকমাত্মানমেবমেব লয়ং ব্রজ ॥ 5-2॥
প্রত্যক্ষমপ্যবস্তুত্বাদ্ বিশ্বং নাস্ত্যমলে ত্বয়ি ।
রজ্জুসর্প ইব ব্যক্তমেবমেব লয়ং ব্রজ ॥ 5-3॥
সমদুঃখসুখঃ পূর্ণ আশানৈরাশ্যয়োঃ সমঃ ।
সমজীবিতমৃত্য়ুঃ সন্নেবমেব লয়ং ব্রজ ॥ 5-4॥
পঞ্চম অধ্যায়ের মূল ভাবনা :
১. অসঙ্গ স্বরূপ: “হে রাজন, তোমার কারো সাথে কোনো সঙ্গ (লিপ্ততা) নেই। তুমি শুদ্ধ। তুমি কী ত্যাগ করতে চাইছ? তুমি এই জগত ও দেহ-মনের সংঘাত বা অস্তিত্ব বিলীন করে শান্তিতে লয়প্রাপ্ত হও (নিজের সত্য স্বরূপ উপলব্ধি করো)।”
২. জগতের উৎপত্তি: “সমুদ্র থেকে যেমন বুদবুদ সৃষ্টি হয়, তেমনি তোমার থেকেই এই বিশ্ব-সৃষ্টির উৎপত্তি। এটি জেনে নিজেকে অখণ্ড আত্মরূপে উপলব্ধি করো।”
৩. অদ্বৈতবাদ: “প্রত্যক্ষ জগত আপাতদৃষ্টিতে সত্য মনে হলেও, আসলে তা মিথ্যা বা বস্তুহীন (অবস্তুত্বাৎ)। রজ্জুতে যেমন সর্প ভ্রম হয় (দড়ি দেখে সাপ মনে করা), তেমনি এই জগত তোমার অকলঙ্ক বা নিষ্কলঙ্ক সত্তায় এক মায়া মাত্র। এই বোধ নিয়ে লয়প্রাপ্ত হও।”
৪. পূর্ণতা: “তুমি সম-দুঃখ-সুখ (দুঃখ ও সুখে সমভাবাপন্ন), পূর্ণ এবং আশা-নিরাশার ঊর্ধ্বে। এই জ্ঞান নিয়ে লয়প্রাপ্ত হও” ।
এই অধ্যায়টি সাধককে তার সমস্ত মানসিক ধারণা এবং জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে শুদ্ধ আত্মসত্তায় স্থিতি লাভ করতে অনুপ্রাণিত করে।
