বিজয়ওয়াড়া এবং হায়দ্রাবাদ কার্যত সন্ত্রাসের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে ! অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় প্রায়শই সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত মুসলিমরা ধরা পড়ছে। তবে হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা সাইদা বেগম নামে এক মহিলার গ্রেপ্তারি সকলকে চমকে দিয়েছে । আপাত দৃষ্টিতে সহজ-সরল ও হাসিখুশি ওই মধ্য বয়সী মহিলার যোগসূত্র পাওয়া গেছে আইএসআইএস, আল-কায়েদা এবং অন্যান্য কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে । রবিবার অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ হায়দ্রাবাদ থেকে সায়েদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। আর তার গ্রেপ্তারির কারন জানতে পেরে হতবাক হয়ে যায় পাড়া-প্রতিবেশীরা ।
পুলিশ জানতে পারে যে ভারতকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে অত্যন্ত গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সায়েদা বেগম । অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ একটি সন্দেহজনক কার্যকলাপের তদন্তের সময় ‘আল মালিক ইসলামিক ইয়ুথ’ নামে একটি সংগঠনের সন্ধান পায়। এনআইএ যখন এর তদন্ত করে, তখন আইএসআইএস এবং একিউআইএস -এর সাথে এর সংযোগ প্রকাশ পায়।এই নেটওয়ার্ক টি পেছনে পরিচালিত করছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রকরা৷ পুলিশের মতে, এই সংগঠনটি ‘খাওয়াতিন’ নামে একটি মহিলা শাখা তৈরি করে ছিল, যার নেতৃত্বে ছিল সাইদা বেগম ।
“খাওয়াতিন” গোষ্ঠীর লক্ষ্য ছিল তরুণীদের অস্ত্র চালনা, স্নাইপার রাইফেল এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্র তৈরির যুদ্ধে এই স্লিপার সেলগুলো দেশজুড়ে হামলায় সহায়তা করতে পারে। এই উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ৪০টিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো হচ্ছিল এবং নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে ভারতীয় ও হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তোলা হচ্ছিল ।
পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যক্তিদের সাথে সাইদা বেগমের যোগাযোগ ছিল। তারা সবাই আইসিসের পতাকাসহ ছবি পোস্ট করত এবং ‘এক উম্মাহ’ স্লোগান দিত। সাইদা বেগম ভারতে নতুন মুসলিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং গাজওয়া-ই-হিন্দ আন্দোলনের জন্য তাদের উগ্রপন্থী করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন । তিনি পাকিস্তানি ধর্মগুরু, জাকির নায়েক এবং ওসামা বিন লাদেনের ভিডিও শেয়ার করতেন। সাইদা বেগমের পরবর্তী কাজ ছিল উগ্রপন্থী মুসলিমদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো। এই প্রচেষ্টায় তিনি কতটা সফল হয়েছেন এবং দেশ ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে কতজনকে উসকানি দিয়েছেন, তা তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই গ্রেপ্তারটি বিজয়ওয়াড়া পুলিশের পরিচালিত একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ ছিল। পুলিশ এর আগে বিজয়ওয়াড়া থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল: মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ শরীফ, মোহাম্মদ দানিশ এবং মির্জা সোহেল বেগ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই সৈয়দা বেগমের নাম সামনে আসে । সন্ত্রাসবাদ মামলায় দেশের ছয়টি রাজ্য থেকে এযাবৎ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।।
