মধ্যপ্রদেশের হর্ষা রিচারিয়া, যিনি মহা কুম্ভ মেলার সময় আলোচনায় এসেছিলেন, তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে নতুন করে চর্চায় এসেছেন। ভিডিওটিতে হর্ষাকে দাবি করতে দেখা যায় যে, একজন মুসলিম ব্যক্তির পাঠানো ইমেলগুলো ‘লাভ জিহাদ’ বা ‘ব্রেইনওয়াশিং’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ভিডিওতে হর্ষা রিচারিয়া বলেছেন, “আপনাদের একটা কথা বলি। আজ হয়তো অনেকেই বিরক্ত বোধ করছেন। আমি তাতে পাত্তা দিই না। আমি এমন কয়েকজনের কাছ থেকে ইমেল পেয়েছি, যারা গত কয়েকদিন ধরে আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছেন, ‘কেমন আছেন? কোথায় আছেন? আপনার কোনো খবর আছে? আপনার শরীর ঠিক আছে তো? কিছু পোস্ট করছেন না কেন?’
দেখুন, হর্ষা, খ্যাতি আর ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য এই সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো দিয়ে সংসার চলে না। এগুলো থেকে কোনো আয় হয় না। এ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? আপনি আমার সাথে তা শেয়ার করতে পারেন।”
সাধ্বী হর্ষার ভাষ্যমতে, যিনি ইমেলটি পাঠিয়েছিলেন, তিনি আমাকে বেশ কয়েকটি ইমেলও পাঠিয়েছিলেন। অন্যদের মতো তিনি আমাকে ‘ভণ্ড’ বা ‘কপট’ বলেননি । তিনি আমাকে ইমেল করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এখন আমি আপনাকে বলব কীভাবে আপনার মেয়েরা ‘লাভ জিহাদে’ ফেঁসে যায়।”
মহা কুম্ভে ভাইরাল হওয়া সাধ্বী হর্ষা রিচারিয়া আরও বলেন, “আমাদের নিজেদের ধর্মেরই এই দুর্বলতা আছে: যখন আমাদের আপনজনদের প্রয়োজন হয়, যখন আমাদের কাছের মানুষদের প্রয়োজন হয়, তখন তারা আমাদের উপহাস করতে ব্যস্ত থাকে।
তারা আমাদের ভণ্ড, কপট, মিথ্যাবাদী, ধূর্ত, প্রতারক এবং আরও কত কী বলে ডাকে। তারপর তারা ভাবতে থাকে, ‘ওহ্, ও তো শুধু ভান করছে।'” আর এভাবেই আপনি সেই মানুষটিকে মানসিকভাবে এবং আবেগগতভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন।
তারপর অন্য ধর্মের মানুষেরা সেই দুর্বলতাটি লক্ষ্য করেন। এবং তখন তারা বুঝতে পারেন যে এই মেয়েটি ভেঙে পড়েছে, এই মেয়েটি সমস্যায় আছে, তার একটি কাঁধ দরকার। তার সমর্থন প্রয়োজন। তখন তারা তাকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসেন।তারপর তারা তাকে আশ্বাস দেন, ‘দেখো, যখন আর কেউ তোমার কথা শুনতেও রাজি ছিল না, তখন আমি তোমাকে বুঝেছিলাম।’
তখন সেই মেয়েটি অনুভব করে, ‘হ্যাঁ, আমার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কে হতে পারে?’ আমার ধর্মের মানুষেরা আমাকে বোঝে না, আমার ধর্মের মানুষেরা আমার কথা শোনে না।” আমার আপনজনেরা আমার কথা শোনে না, তাই এই মানুষটি দেবদূতের মতো আমার জীবনে এলেন।
তারপর সে ছেলেটির কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করে… আর এখান থেকেই শুরু হয় ‘মগজধোলাই’ এবং ‘লাভ জিহাদ’।হর্ষ রিচারিয়া এই বলে উপসংহার টানেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ত্রুটি আমাদের নিজেদের ধর্ম ও সমাজের মধ্যেই নিহিত, যা নিজ জনগণকে সমর্থন করার পরিবর্তে তাদের হেয় করতে ব্যস্ত। তিনি একে একটি “কঠোর বাস্তবতা” বলে অভিহিত করেন এবং “জয় শ্রী রাম” বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।।

