এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,০৩ এপ্রিল : শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে খোলাখুলি প্রচার করার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (এআরও) তথা জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন৷ পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) এক চিঠি অনুসারে, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার আবশ্যকতা পালনে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর,জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদে থেকেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘খোলামেলা’ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে । বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খান তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে প্রচারের গুরুতর অভিযোগ তোলার পর নড়েচড়ে বসে কমিশন । অবশেষে তার কয়েক দিন পরেই জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হল ।
গত ২৯শে মার্চ, সৌমিত্র খান এক্স-এ এই বিষয়টি উত্থাপন করে বলেছিলেন যে জ্যোৎস্না খাতুন “তাঁর সাংবিধানিক পদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতা সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন দিয়ে টিএমসি-র পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার ও পোস্ট করছেন।” তিনি নির্বাচনের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে ট্যাগ করেন।
তার পোস্টে খাতুনের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপের স্ক্রিনশট অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পক্ষে প্রচার চালানো এবং নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রকাশ্য সমালোচনা করার অভিযোগ আনা হয়।
নির্বাচন ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যাপক বদলির জন্য জ্যোৎস্না খাতুন নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করেন। তিনি লিখেছিলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে আড়াই লক্ষ কর্মী আসছেন—এমন বাহিনী যাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করা যাবে না।” তিনি তার
একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “বরাবরের মতোই, নির্বাচন কমিশন জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কার্যত প্রক্রিয়াটিকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে।” জ্যোৎস্না খাতুনও লিখেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন হলো ‘কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ’।
উল্লেখ্য,যুগ্ম বিডিও হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে খণ্ডঘোষ ব্লকে কাজে যোগ দেন জ্যোৎস্না খাতুন। এসআইআর (SIR) পর্বে ভালো কাজ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারা পুরস্কৃতও হয়েছিলেন তিনি । কিন্তু শাসকদলের হয়ে প্রচারের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করায় তার সেই সম্মাননা কার্যত বিফলে গেল ।।
