এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৩ এপ্রিল : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সীমান্তের ৫৪০ কিলোমিটার জায়গা না দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরে তুলছে বিজেপি । সেই সুযোগে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দল বঙ্গে ঢুকে পড়ে গোটা দেশে চাড়িয়ে গিয়ে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে প্রায়ই অভিযোগ তুলে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ৷ তবে বিএসএফের তৎপরতায় স্থলপথে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও নদী বা জলা জায়গা অধ্যুষিত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ রোখা কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে যায় বিএসএফের জন্য । এই জন্য বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমিতে বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে । বৃহস্পতিবার ’দ্য ফেডারেল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কার্যকলাপ রোধ করতে যেসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেসব ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নদীপথ এবং জলাভূমিগুলোতে বিষাক্ত সাপ, কুমিরের মতো সরীসৃপ ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা বলা হচ্ছে।
বিএসএফ গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে শুরু করেছে। এমনিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্তে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলো বহুমুখী এবং জটিল। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফ অনেক জায়গাতেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে। এছাড়া, সীমান্তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সমর্থিত ট্র্যাকিং ও লোকেটিং গ্যাজেট এবং থার্মাল ইমেজার-এর মতো উন্নত প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের মত রাজ্যগুলোতে সীমান্তের কিছু অংশ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে; যাতে মানুষের অবৈধ চলাচল ঠেকানো যায়।
কিন্তু সীমান্তের জলাভূমির অংশে তা সম্ভব না হওয়ায় সাপ ও কুমিরের ভাবনা আসে বিএসএফ কর্মকর্তাদের মাথায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করেন।পরে ২০ মার্চ বিএসএফের নয়াদিল্লি সদর দপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের আরেকটি বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। এর পর পর মাঠপর্যায়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়।
’দ্য ফেডারেল’ ওই লিখিত বার্তার একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত সেক্টর হেডকোয়ার্টারকে সীমান্তের নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনার ওপর গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাপ ও কুমির ব্যবহারের প্রস্তাব ছাড়াও ২০ মার্চের বৈঠকে বিএসএফের পূর্ব অঞ্চলের সেক্টর হেডকোয়ার্টার গুলোকে মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগহীন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের সীমান্ত আউটপোস্টগুলো চিহ্নিত করা এবং ম্যাপ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছে।তবে মাঠ পর্যায়ে সাপ ও কুমির ধরার কাজ কারা করবে এবং সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ সরীসৃপ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সীমান্ত রাজ্যগুলোর কোন নদীপথগুলোতে সাপ ও কুমির ছাড়া হবে, তাও জানা যায়নি।।
