“বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দবন্ধটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব জনপ্রিয় হয়েছে । আসলে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে এক ধর্ম সম্প্রদায়কে ছোট করে অন্য ধর্মের কট্টরপন্থী মানসিকতাকে আড়াল করার অভিযোগ তুলে মূলত এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হচ্ছে । ইউরোপের বামপন্থী শাসিত দেশগুলিতে এই “বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা”র বিরুদ্ধে একটু একটু করে সরব হচ্ছে সেদেশের সাধারণ মানুষ । ভারতও এই প্রকার ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির শিকার । কট্টর হিন্দুত্ববাদের ক্রম উত্থানের জন্য ভোটব্যাংকের ওই ঘৃণ্য রাজনীতিকেই দায়ি করা হয় । ভারতের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আজ এই “বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা”র বিরুদ্ধে অনেকাংশে একজোট হয়েছে । যার ফলে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মত কথিত রাজনৈতিক দলগুলির নেতারাও রামনবমী উদযাপন করতে পিছপা হচ্ছে না আজ । তবে আর এক কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল সিপিএম ইফতারের আয়োজন করলেও, রামনবমী উদযাপন করা তো দুরের কথা, তাদের কোনো পূজানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় না । পরিবর্তে বিকাশ ভট্টাচার্যদের মত সিপিএমের নেতাদের কলকাতার রাজপথে রান্না করা গোমাংস খেয়ে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমান করার মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা যায় ।
তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এই ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত নয় । এটা বর্তমানে চরম পর্যায়ে দেখা যায় সিপিএম শাসিত কেরালায় । কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় । একটা সময় উত্তরপ্রদেশের মুলায়েম সিং যাদব ও মায়াবতীদের এই ‘বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা’র কারনে রাজ্যটা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যত বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছিল । এই প্রসঙ্গে ২০১১ সালের ৬ জুলাই উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের মৈনাথারের একটা ঘটনা উল্লেখযোগ্য । যাকে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র মিশ্র নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী(@mishra_satish) ‘বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা’র ফলশ্রুতি বলে বর্ণনা করেছে । আজ থেকে ১৫ বছর আগে মোরাদাবাদের মৈনাথারে ঘটে যাওয়া সেই হিংসাত্মক ঘটনার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন সেটি নিচে তুলে ধরা হল :
“বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা…২০১১ সালের ৬ জুলাই, মোরাদাবাদের (উত্তর প্রদেশ) মৈনাথারে, একদল মুসলিম জনতা একটি ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার বিষয়ে একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছিল।তারা একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালায়, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশ কর্মী ও হিন্দুদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। ৫০০ জিহাদি নিয়ে গঠিত সেই উগ্র জনতা—তৎকালীন মোরাদাবাদের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) হিসেবে কর্মরত অশোক কুমার সিং-কে ঘিরে ফেলে এবং রড, তলোয়ার ও লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়।
তারা তাঁর পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয়। অশোক কুমার সিং মারা গেছেন—এমনটা মনে করে তারা তাঁকে সেখানেই ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তিনি হাতে, কাঁধে এবং পাঁজরে আটটি হাড় ভাঙাসহ একাধিক গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং এরপরও প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। সেই সময়ে মায়াবতী ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
তিনি লিখেছেন,”সেদিন টানা ১০ ঘণ্টা ধরে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে শত শত মুসলিম গ্রামবাসীর তীব্র সংঘর্ষ চলে; এই গ্রামবাসীরা মোরাদাবাদ জেলার অন্যান্য অংশ থেকে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা রামপুর, সম্ভল ও আমরোহা থেকে দলে দলে এসে জড়ো হয়েছিল।
অভিযুক্তরা মৈনাথার পুলিশ স্টেশনের প্রাঙ্গণের ঠিক ভেতরেই একটি পুলিশ জিপে আগুন ধরিয়ে দেয়। অস্থিরতা আরও উসকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, মুসলিম দাঙ্গাবাজরা প্রথমে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ওপর হামলা শুরু করে।বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হিন্দুদেরই সুনির্দিষ্টভাবে বেছে বেছে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে, পথচারী হিন্দুরা ঘটনাস্থলেই নিজেদের যানবাহন ফেলে রেখে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যায়। যাত্রীরা সম্পূর্ণ অসহায় ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল।”
তিনি আরও লিখেছেন,”২০২৬ সালের ২৮ মার্চ (অর্থাৎ, ১৫ বছর পর), মোরাদাবাদের একটি স্থানীয় আদালত এই পূর্বপরিকল্পিত হিংসার ঘটনায় ১৬ জন দাঙ্গাবাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। এই রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানগুলোর নাম হলো: মঞ্জুর আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, হাশিম, মোহাম্মদ কামরুল, মোহাম্মদ মুজিফ, মোহাম্মদ ইউনুস, রিজওয়ান, আনোয়ার, ফিরোজ, কামরুল, মবিন, পারভেজ, মুজিব, তাহজীব এবং জানে আলম।”
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন । অখিলেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে নিজের ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে আতিক আহমেদের মত দুষ্কৃতী,মাফিয়াদের তিনি লালনপালন করে রেখেছিলেন । কিন্তু আজ যোগীর শাসনে উত্তরপ্রদেশে আতিক আহমেদ কবরে । মাফিয়ারাজ খতম । উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট দিশার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের বৃহত্তম প্রদেশটি।।
“Toxic Secularism”: How Mulayam and Mayawati “বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা” : যেভাবে মুলায়েম- মায়াবতীরা বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছিল উত্তরপ্রদেশকে
“বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দবন্ধটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব জনপ্রিয় হয়েছে । আসলে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে এক ধর্ম সম্প্রদায়কে ছোট করে অন্য ধর্মের কট্টরপন্থী মানসিকতাকে আড়াল করার অভিযোগ তুলে মূলত এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হচ্ছে । ইউরোপের বামপন্থী শাসিত দেশগুলিতে এই “বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা”র বিরুদ্ধে একটু একটু করে সরব হচ্ছে সেদেশের সাধারণ মানুষ । ভারতও এই প্রকার ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির শিকার । কট্টর হিন্দুত্ববাদের ক্রম উত্থানের জন্য ভোটব্যাংকের ওই ঘৃণ্য রাজনীতিকেই দায়ি করা হয় । ভারতের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আজ এই “বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা”র বিরুদ্ধে অনেকাংশে একজোট হয়েছে । যার ফলে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মত কথিত রাজনৈতিক দলগুলির নেতারাও রামনবমী উদযাপন করতে পিছপা হচ্ছে না আজ । তবে আর এক কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল সিপিএম ইফতারের আয়োজন করলেও, রামনবমী উদযাপন করা তো দুরের কথা, তাদের কোনো পূজানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় না । পরিবর্তে বিকাশ ভট্টাচার্যদের মত সিপিএমের নেতাদের কলকাতার রাজপথে রান্না করা গোমাংস খেয়ে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমান করার মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা যায় ।
তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এই ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত নয় । এটা বর্তমানে চরম পর্যায়ে দেখা যায় সিপিএম শাসিত কেরালায় । কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় । একটা সময় উত্তরপ্রদেশের মুলায়েম সিং যাদব ও মায়াবতীদের এই ‘বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা’র কারনে রাজ্যটা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যত বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছিল । এই প্রসঙ্গে ২০১১ সালের ৬ জুলাই উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের মৈনাথারের একটা ঘটনা উল্লেখযোগ্য । যাকে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র মিশ্র নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী(@mishra_satish) ‘বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা’র ফলশ্রুতি বলে বর্ণনা করেছে । আজ থেকে ১৫ বছর আগে মোরাদাবাদের মৈনাথারে ঘটে যাওয়া সেই হিংসাত্মক ঘটনার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন সেটি নিচে তুলে ধরা হল :
“বিষাক্ত ধর্মনিরপেক্ষতা…২০১১ সালের ৬ জুলাই, মোরাদাবাদের (উত্তর প্রদেশ) মৈনাথারে, একদল মুসলিম জনতা একটি ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার বিষয়ে একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছিল।তারা একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালায়, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশ কর্মী ও হিন্দুদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। ৫০০ জিহাদি নিয়ে গঠিত সেই উগ্র জনতা—তৎকালীন মোরাদাবাদের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) হিসেবে কর্মরত অশোক কুমার সিং-কে ঘিরে ফেলে এবং রড, তলোয়ার ও লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়।
তারা তাঁর পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয়। অশোক কুমার সিং মারা গেছেন—এমনটা মনে করে তারা তাঁকে সেখানেই ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তিনি হাতে, কাঁধে এবং পাঁজরে আটটি হাড় ভাঙাসহ একাধিক গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং এরপরও প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। সেই সময়ে মায়াবতী ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
তিনি লিখেছেন,”সেদিন টানা ১০ ঘণ্টা ধরে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে শত শত মুসলিম গ্রামবাসীর তীব্র সংঘর্ষ চলে; এই গ্রামবাসীরা মোরাদাবাদ জেলার অন্যান্য অংশ থেকে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা রামপুর, সম্ভল ও আমরোহা থেকে দলে দলে এসে জড়ো হয়েছিল।
অভিযুক্তরা মৈনাথার পুলিশ স্টেশনের প্রাঙ্গণের ঠিক ভেতরেই একটি পুলিশ জিপে আগুন ধরিয়ে দেয়। অস্থিরতা আরও উসকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, মুসলিম দাঙ্গাবাজরা প্রথমে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ওপর হামলা শুরু করে।বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হিন্দুদেরই সুনির্দিষ্টভাবে বেছে বেছে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে, পথচারী হিন্দুরা ঘটনাস্থলেই নিজেদের যানবাহন ফেলে রেখে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যায়। যাত্রীরা সম্পূর্ণ অসহায় ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল।”
তিনি আরও লিখেছেন,”২০২৬ সালের ২৮ মার্চ (অর্থাৎ, ১৫ বছর পর), মোরাদাবাদের একটি স্থানীয় আদালত এই পূর্বপরিকল্পিত হিংসার ঘটনায় ১৬ জন দাঙ্গাবাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। এই রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানগুলোর নাম হলো: মঞ্জুর আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, হাশিম, মোহাম্মদ কামরুল, মোহাম্মদ মুজিফ, মোহাম্মদ ইউনুস, রিজওয়ান, আনোয়ার, ফিরোজ, কামরুল, মবিন, পারভেজ, মুজিব, তাহজীব এবং জানে আলম।”
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন । অখিলেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে নিজের ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে আতিক আহমেদের মত দুষ্কৃতী,মাফিয়াদের তিনি লালনপালন করে রেখেছিলেন । কিন্তু আজ যোগীর শাসনে উত্তরপ্রদেশে আতিক আহমেদ কবরে । মাফিয়ারাজ খতম । উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট দিশার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের বৃহত্তম প্রদেশটি।।
