এইদিন ওয়েবডেস্ক,সম্ভল,৩০ মার্চ : উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টির সম্ভলের সাংসদ জিয়া-উর-রহমান বারকের শ্যালক ডাঃ জায়েদ ওয়ারসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ,সম্ভলে তার বিসমিল্লাহ হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সকে তিন বছর ধরে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করিয়েছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডাঃ জায়েদ ওয়ারসি এবং তার বাবা মহম্মদ আসলামের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের ১৫ই ডিসেম্বর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তার জায়েদ ওয়ারসি তার ঘরে এসে তাকে মাদক মেশানো কিছু ওষুধ দেন। ওষুধটি খাওয়ার পর ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ডাক্তার তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তোলেন। পরের দিন তিনি ভুক্তভোগীকে সেই ছবি ও ভিডিওগুলো দেখান এবং কাউকে কিছু বললে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ও ছবি ও ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তিনি তাকে বারবার ব্ল্যাকমেল ও ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী গর্ভবতী হলে ডাক্তার তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন।
ভুক্তভোগী জানান যে, ডাক্তার জায়েদ ওয়ারসি তাকে নৈনিতাল, হলদওয়ানি, বরেলি এবং রামপুরের মতো শহরে নিয়ে গিয়ে সেখানে বারবার যৌন শোষণ করতেন। ক্রমাগত শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ১৯শে আগস্ট হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে মোরাদাবাদে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ডাক্তার ওয়ারসি তাকে ব্ল্যাকমেল ও যৌন শোষণ করা চালিয়ে যান।
২০২৫ সালের ২ অক্টোবর, ডাক্তার জায়েদ ওয়ারসি ভুক্তভোগীকে সম্ভলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি জোর করে তাকে গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়ান। ক্রমাগত যৌন শোষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং ওষুধের কারণে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবশেষে তিনি তার মাকে সবকিছু খুলে বলেন। এরপর তিনি ডাক্তারের সাথে কথা বলতে তার মাকে নিয়ে বিসমিল্লাহ হাসপাতালে যান।
কিন্তু যখন ভুক্তভোগী ও তার মা ডাক্তার জায়েদ ওয়ারসির মুখোমুখি হন, তখন তিনি ও তার বাবা তাদের গালিগালাজ করেন এবং হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এরপর মা ও মেয়ে থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গজেন্দ্র সিং জানান যে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।।
