এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),২৮ মার্চ : রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থা ঠিক কতটা বেহাল, ফের একবার তার প্রমান মিললো । পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল ভবনের ছাদের চাঁওড় ভেঙে এক চার মাসের শিশুকন্যার উপর পড়লে মৃত্যু হয় তার । মৃত শিশুর নাম প্রিয়দর্শিনী বেসরা। ছাদের চাঁওড় ভেঙে পড়ার শিশুটি ঘরের মেঝেতে শুয়ে ঘুমচ্ছিল বলে জানা গেছে ।
জানা গেছে,মৃত শিশুটির মা শিবানী সোরেন ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত । বাবা সানু বেসরা কেতুগ্রামের সীতাহাটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার । শিবানীদেবী আবাসনের ঘরের মেঝেতে মেয়েকে শুইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে নিজেও ঘুমচ্ছিলেন । সেই সময় ছাদের একটি বড় চাঁওড় ভেঙে শিশুটির উপর পড়ে৷ বরাত জোরে তিনি বেঁচে গেলেও চাঁওড়টি সরাসরি তার মেয়ের মাথায় এসে পড়ে । এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল । কিন্তু রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তার ।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল সানু বেসরা ও শিবানী সোরেন । আজ তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমরা জরাজীর্ণ ভবনেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছিলাম । সংস্কার করার জন্য বহুবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম । কিন্তু সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি । যদি নেওয়া হত তাহলে আমার একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারাতে হত না ।’
তবে শুধু শিবানীদেবীদের আবাসনই নয়, কেতুগ্রাম ২ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রায় সমস্ত আবাসগুলির দীর্ঘ দিন ধরে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও এযাবৎ সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি । যেকারণে কার্যত প্রাণ হাতে করে বসবাস করতে বাধ্য হন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা । ফলে তাদের সর্বদা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয় । পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানিয়েছেন যে শুধু কেতুগ্রামই নয়, জেলার একাধিক এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি আবাসনগুলি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় আছে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে চিঠি করে বিষয়টি নজরে আনা হয় বলেও তিনি জানান । পাশাপাশি এক সহকর্মী দম্পতির চার মাসের শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যুতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,’ভীষণ দুঃখজনক ঘটনা। আমি মৃত শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি ।’।
