এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২৪ মার্চ : আদিত্য ধরের স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘ধুরান্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বা “ধুরন্ধর-২” বিশ্ব জুড়ে ১৯ মার্চ মুক্তি পেয়েছে । রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২’ দারুণ সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। ছবিটি শুধু দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকেই নয়, চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। কিন্তু বলিউডের এই ছবিটি পাকিস্তানের ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে । অজ্ঞাত কাউকে দেখলেই তাকে ভারতের “স্পাই” মনে করে পুলিশ বাহিনী নিয়ে তার কাছে গিয়ে ঠিকুজিকষ্ঠি দেখতে চাইছে স্থানীয় পাকিস্তানি নাগরিকরা । এই ছবিটির জন্য দেশে ঠিক কিরকম সন্দেহের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছেন দুই পাকিস্তান প্রাক্তন ক্রিকেটের সঈদ আফ্রিদি ও ওয়াকার ইউনিস ।
পাকিস্তানে ধুরন্ধর সিনেমার প্রভাব নিয়ে শঈদ আফ্রিদি বলেছেন,”ধুরন্ধর সিনেমার পর পাকিস্তানে আর কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। আমি যার সাথেই কথা বলি, খুব সাবধানে কথা বলি, কারণ মনে হয় তারা ভারতীয় এজেন্ট হতে পারে। এবং মনে হচ্ছে, আমাদের সরকারের উচিত রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে বাকি সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা যে তারা ভারতীয় এজেন্ট কি না।”
পাকিস্তানে ঠিক কি প্রকার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই ছবিটি তার এক ঝলক উঠে এসেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের কয়েকটা ভাইরাল ভিডিওতে। যেখানে সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশকে একটি ভিক্ষুক ধরে ধরে অথবা ফকিরদের ঠেকে ছুটে গিয়ে নামধাম জিজ্ঞেস করতে দেখা গেছে । পাকিস্তানের আরও এক প্রাক্তন ক্রিকেটর ওয়াকার ইউনুস বলেছেন,”দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের বৈরিতা চলছে, তাতে আমাদের মাঝে ভারতীয় গুপ্তচর না থাকলে আমি অবাকই হব। আসলে, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটের যেভাবে অবনতি হয়েছে, তাতে আমার সন্দেহ হতে শুরু করেছে যে ভারতীয় গুপ্তচররা পিসিবি-র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।”
কিন্তু আদিত্য ধরের স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘ধুরান্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ নিয়ে কেন এত আতঙ্কে আছে পাকিস্তান ? কি আছে এই ছবিতে ?
“ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ” হলো ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ভারতীয় হিন্দি ভাষার স্পাই অ্যাকশন-থ্রিলার চলচ্চিত্র, যা আদিত্য ধর রচনা ও পরিচালনা করেছেন৷ এটি জিও স্টুডিওস এবং বি৬২ স্টুডিওসের ব্যানারে ধর, লোকেশ ধর এবং জ্যোতি দেশপান্ডে প্রযোজনা করেছেন । এটি ২০২৫ সালের চলচ্চিত্র “ধুরন্ধর”-এর সিক্যুয়েল এবং এই ডুয়োলজির শেষ পর্ব। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং , অর্জুন রামপাল , সঞ্জয় দত্ত , আর. মাধবন , সারা অর্জুন , রাকেশ বেদী , গৌরব গেরা , দানিশ পান্ডোর এবং মানব গোহিল , এবং প্রথম পর্বের বেশ কিছু অভিনেতা তাদের চরিত্রে পুনরায় অভিনয় করেছেন।
উইকিপিডিয়া ছবিটির কাহিনী সম্পর্কে বলা হয়েছে : এর কাহিনী একজন ছদ্মবেশী ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টকে কেন্দ্র করে, যিনি ২৬/১১ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি আরও বড় হুমকির মোকাবেলা করে করাচির অপরাধী চক্র এবং পাকিস্তানের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করেন । ছবিটির কাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক বাস্তব ভূ- রাজনৈতিক ঘটনা এবং সংঘাত , যেমন অপারেশন লিয়ারি , ২০১৪ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন , ২০১৬ সালের ভারতীয় নোট বাতিল এবং অন্যান্য বিভিন্ন ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত।
ছবিতে মাদক সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিম এবং গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের চরিত্র চিত্রায়ণ করা হয়েছে । ছবিটি পুরোপুরি আইএসআই-এর মাদক সন্ত্রাসবাদ, জাল ভারতীয় মুদ্রা ব্যবসার চক্র এবং গাজওয়া-ই- হিন্দ নিয়ে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার উপর কেন্দ্র করে নির্মিত। এছাড়াও, বেলুচ যোদ্ধা এবং ভারতীয় এজেন্টদের দ্বারা পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের গণহত্যাকাণ্ড দেখানো হয়েছে । হামজা ছদ্মনাম নিয়ে ভারতীয় গুপ্তচর জাসকিরাত সিং রাঙ্গি(অভিনেতা : রনবীর সিং) কিভাবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসের রাজত্বকে ছাড়খাড় করে দিয়ে আসে, সেই কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে ।
ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ-এর ট্রেলারটি এই লাইন দিয়ে শুরু হয় – “হিন্দু বহুত হি ডরর্পক কওম হ্যায়”, অর্থাৎ “হিন্দুরা একটি অত্যন্ত কাপুরুষ সম্প্রদায় ।”লাইনটি ২ বার পুনরাবৃত্তি করা হয়, এরপর রণবীর সিং-এর পুরুষালি ঘুষির দৃশ্য দেখানো হয়। ভারতের একজন এক্স ব্যবহারকারী ছবিটির প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “ধুরন্ধর কোনো সাধারণ চলচ্চিত্র নয়।এটি আদিত্য ধরের সত্তর বছরের বলিউড প্রচারণাকে এক নিমেষে ভেঙে দেওয়া।করাচিকে দেখানো হয়েছে যেমনটা আছে ঠিক তেমনভাবে, সন্ত্রাসকে দেখানো হয়েছে কোনো প্রসাধন ছাড়াই, ভারতের ক্ষতচিহ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াই। সমালোচকরা কাঁদছেন, দর্শকরা গর্জন করছেন।ভারতের আসল শত্রু কারা, তা যদি জানতে চান, তবে শুধু দেখুন এই সিনেমাটি নিয়ে কারা অস্বস্তিতে আছেন।”
