উত্তর প্রদেশের বারাণসী জেলায় গঙ্গা নদীতে নৌকায় বসে কিছু মুসলিম যুবককে মুরগীর মাংসের বিরিয়ানি খেয়ে ইফতার পার্টি করতে এবং গঙ্গার জলে হাড় ফেলতে দেখা যায়, যার একটি ভিডিও সামনে এলে হিন্দুরা তীব্র প্রতিবাদ করে । ভিডিওটির বিষয়ে অবগত হয়ে বিজেপির বারাণসী মহানগর যুব সভাপতি রজত জয়সওয়াল একটি এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন, কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী এবং তথাকথিত উদারপন্থী মহল এই ঘটনায় মুসলিম ব্যক্তিদের পক্ষ সমর্থনে এগিয়ে এসেছে । তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতরা বারাণসীর গঙ্গার তীরে মুরগির মাংস খাওয়া বা নদীর জলে উচ্ছিষ্ট হাড় ফেলা অপরাধ নয় বলে মনে করছেন ।
নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র গ্রেপ্তারির নিন্দা জানিয়ে এক্স সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন । যার পালটা জবাব দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভি খান । মহুয়া মৈত্র লিখেছেন,”আমি একজন হিন্দু হিসেবে ইউপি পুলিশ ও বারাণসী পুলিশকে জিজ্ঞাসা করছি – একজন হিন্দুর মাংস ও হাড়ের মৃতদেহ কি নিরামিষাশী নাকি আমিষাশী ? এই প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত, গঙ্গার তীরে মুরগির মাংস খাওয়ার জন্য আইনত কাউকেই গ্রেপ্তার করা যাবে না। ব্যস।”
ঘটনাটা কি ?
মহুয়াকে ট্যাগ করে শুভি খান পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন,”আমি একজন মুসলিম হিসেবে মহুয়া মৈত্রকে জিজ্ঞাসা করছি – মুসলিমরা তো এমনিতেই মুরগি, খাসির মাংস ও অন্যান্য আমিষ খাবার খায়, তাহলে মসজিদে শূকরের মাংস রাখা কি ঠিক? এতে পার্থক্যটা কোথায়? উত্তরটা হলো, উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়। এই ধরনের নির্বোধ তুলনা সমস্যার সমাধান করবে না।”
প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) কাশীতে গঙ্গা নদীর মাঝখানে একটি নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রোজা রাখা যুবকদের একটি দল ফল ও শুকনো ফলের সাথে চিকেন বিরিয়ানি খাচ্ছিলেন । গঙ্গার জলে মাংসের হাড়ও ফেলতে দেখা যায়৷ এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, নৌকায় বসে থাকা যুবকেরা বিরিয়ানি খাচ্ছেন এবং অবশিষ্ট হাড় ও বর্জ্য গঙ্গায় ফেলে দিচ্ছেন। হিন্দু সংগঠন ও স্থানীয় লোকজন অবিলম্বে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর কোতোয়ালি পুলিশ ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উপাসনালয়ের অবমাননা এবং গঙ্গার পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
যদিও সনাতন ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত গঙ্গা নদীতে আমিষ বিরিয়ানি খাওয়াকে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস সদস্যরা ভুল মনে করেননি। বরং, তারা সনাতনপন্থীদের বিশ্বাস নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাত প্রশ্ন করেন, “এই মুসলমানরা কোন আইন ভেঙেছে?” তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “তাদের অপরাধ কী?” আর এই প্রশ্ন করে তিনি সমাজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন সমাজ আজ কোন পথে এগোচ্ছে ।
এদিকে এই ঘটনায় অখিলেশ যাদব ঝাঁপিয়ে পড়েছেন । এখন প্রশ্ন উঠছে: মহুয়া মৈত্র, সুপ্রিয়া শ্রীনাত ও অখিলেশ যাদবরা এই ঘটনায় কেন এত আগ্রহী ? উত্তরটি স্পষ্ট: ভোটব্যাঙ্ক। কংগ্রেস, টিএমসি এবং সমাজবাদী পার্টির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই তোষণ নীতির উপর ভিত্তি করে চলে আসছে। মহুয়া মৈত্র, অখিলেশ যাদবরা মুসলিম ভোট পাওয়ার আশায় প্রতিটি সুযোগে সনাতন ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে আসছেন। মা গঙ্গা শুধু একটি জলের ধারা নন। তিনি সনাতন হিন্দুধর্মের আত্মা। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁকে মা বলে ডাকে। নবরাত্রির মতো উৎসবে, যখন সারা দেশ দেবী দুর্গার পূজা করছে, তখন গঙ্গায় মাংস ভাসানোটা অনুভূতিতে আঘাত করার একটি ইচ্ছাকৃত কাজ বলে মনে করা হচ্ছে ।
তবে গঙ্গার পবিত্রতাকে অপমান করা নতুন কিছু নয়, কিন্তু একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাটা মহুয়া, অখিলেশদের বিশেষত্ব। গঙ্গার পবিত্রতা নিয়ে অখিলেশের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাঁদের কাছে গঙ্গা কেবলই ভোট পাওয়ার একটি মাধ্যম। এবারও তারা ভেবেছেন যে মুসলিম যুবকদের সমর্থন করে এবং হিন্দুদের অনুভূতি উপেক্ষা করে তারা মুসলিম ভোট পাবেন।
এই ঘটনাটি শুধু বারাণসীর বিষয় নয়, বরং উত্তর প্রদেশ এবং দেশের বিশ্বাসের বিষয়। গঙ্গা সমগ্র ভারতের জীবনরেখা। সনাতনীরা গঙ্গাকে তাদের মা বলে মনে করেন। রামায়ণ ও মহাভারত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গঙ্গার পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তাই, নৌকায় বসে বিরিয়ানি খাওয়া এবং তারপর তার উচ্ছিষ্ট ফেলে দেওয়া শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি একটি নৈতিক অপরাধও বটে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে, মহুয়া ও অখিলেশ এটিকে “মুসলিমদের উপর অত্যাচার” বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে অখিলেশের মন্তব্য হল, “ডিএম এবং এসপি-র ইফতারের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল,” স্পষ্টতই পুলিশকে হুমকি দিচ্ছে। এর মানে কি এই যে, পুলিশ ঘুষ নিলে গঙ্গার এই অবমাননা উপেক্ষা করা হতো?
কংগ্রেস, তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির তোষণের ইতিহাস আছে। বিশেষ করে ইউপিতে মুলায়ম সিং যাদবের সময় থেকে অখিলেশ যাদব পর্যন্ত, দলটি সবসময় একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করার চেষ্টা করেছে। ২০১৩ সালের মুজাফফরনগর দাঙ্গা হোক বা লাভ জিহাদ ইস্যু, অখিলেশ সর্বত্র হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। এখন গঙ্গা ইস্যুটিও সেই একই শৃঙ্খলের অংশ। তারা ভেবেছিল যে নবরাত্রির সময় এই বিতর্ক তৈরি করে তারা হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করবে এবং মুসলিম ভোট নিশ্চিত করবে। কিন্তু মনে হচ্ছে এই খেলা তাদের বুমেরাং হয়ে গেছে ।
অখিলেশ যাদবের বক্তব্য শুধু ভুলই নয়, বিপজ্জনকও। তিনি প্রশ্ন করছেন, গঙ্গার তীরে ইফতার কেন করা যাবে না। এর উত্তর হলো, গঙ্গা কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র মানবজাতির। হিন্দুরা একে মা বলে ডাকে। মুসলমানরাও গঙ্গার তীরে বাস করে এবং একে সম্মান করে। অখিলেশের পুরো বক্তব্যই তার মানসিকতার প্রতিফলন। তিনি চান প্রতিটি বিষয়কে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হোক, যাতে তার ভোটব্যাঙ্ক শক্তিশালী থাকে।
আজকাল প্রতিটি অনুষ্ঠানে সামাজিক শিষ্টাচার বজায় রাখা অপরিহার্য। গঙ্গার পবিত্রতা, ধর্মীয় মর্যাদা এবং সম্প্রীতি—এই তিনটি বিষয় সমাজের দায়িত্ব। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাত,টিএমসি সাংসদ মহুয়া মৈত্র,সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবরা এটিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করেছেন, কিন্তু এখন জনগণ সবকিছু বুঝতে পারছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভোটব্যাঙ্কের জন্য যারা শাশ্বত বিশ্বাসের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছেন, সেই নেতানেত্রীদের মুখোশ এখন উন্মোচিত হয়েছে ।
এদিকে বারাণসী গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার দায়ে বারাণসীর একটি আদালত ১৪ জনকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে বলে শুক্রবার মামলার এক আইনজীবী জানিয়েছেন।গত মঙ্গলবার পবিত্র গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করার অভিযোগে মুসলিম সম্প্রদায়ের ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত দেওয়ানি জজ (সিনিয়র ডিভিশন)/এসিজেএম অমিত কুমার যাদব অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর সকল অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী রজত জয়সওয়ালের আইনজীবী শশাঙ্ক শেখর ত্রিপাঠীর মতে, অভিযুক্তরা নৌকার মাঝিকে হুমকি দিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং নদীতে তার নৌকায় একটি পার্টি করে।সোমবার অনলাইনে ঘটনাটির একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং একই দিনে বিজেপি যুব মোর্চার নগর শাখার প্রধান জয়সওয়াল একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশ নৌকার মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি উল্লেখ করে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। এর ফলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণসহ আরও বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত অভিযোগ যুক্ত করার জন্য একটি আবেদন করা হয়। জয়সওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে, উপাসনালয়ের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।।
