এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ মার্চ : রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান । দিন দুয়েক আগে কাবুলের হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০০ জন মাদকাসক্ত রোগীকে মেরেছে পাকিস্তান বাহিনী । আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩০০ জন রোগী । এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে আফগানিস্তানের শাসক তালিবান । এদিকে দুই ইসলামি রাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘর্ষে লাগাম টানতে ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নামে একটি বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।বার্তাটিতে বলা হয়েছে, “আমি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে আল্লাহর ইচ্ছায় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভাজন রোধ করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব একে অপরের সাথে উন্নত সম্পর্ক স্থাপন করার অনুরোধ করছি এবং আমি আমার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” ইরানি ক্যালেন্ডারের ইসলামী নববর্ষের সূচনা উপলক্ষে আয়াতুল্লাহ খামেনেই কর্তৃক প্রদত্ত এক বার্তায় বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদেরকে আমাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী বলে মনে করি।”
তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা সবসময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত হ্রাসের ওপর জোর দিয়ে এসেছেন। কিন্তু তালেবান ও পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই প্রচেষ্টায় কর্ণপাত করেনি। ইরানের বিদেশমন্ত্রী বারবার মধ্যস্থতা এবং তালেবান -পাকিস্তান আলোচনার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কাবুল ও ইসলামাবাদ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রস্তাবগুলোতে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র নিজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত। তাই পাকিস্তান ও তালেবান এই দেশটির প্রস্তাবগুলোর প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না।ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সাথে তালেবানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক আঞ্চলিক বৈঠকে তালেবান অংশগ্রহণই করেনি।
এই প্রথমবার খামেনি তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র উদ্বিগ্ন যে, জঙ্গিরা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে হামলা চালাবে।ইসলামী প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের তালেবানের সাথেও ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। সংঘাতের আগে, ইরান ছিল তালেবানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল ।।
