মহম্মদ ইউনূস তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ভারত বিদ্বেষ দেখা গিয়েছিল । প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর শ্লোগান থেকে শুরু করে ভারতের সামগ্রী বয়কটের ডাক দেওয়া হয় । যদিও আজ সেই বাংলাদেশকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে ডিজেল- পেট্রোল সঙ্কটের সময় সেই ভারতের কাছেই হাত পাততে হচ্ছে । বাংলাদেশের বরিশাল ভিত্তিক ও মালেশিয়ার কুয়ালালামপুরের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান আসাদ নিজ দেশের এক শ্রেণীর মুসলিমদের ভারত বিদ্বেষ নিয়ে একটা বড়সড় পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় । তার সেই পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হল :
বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের একটা অংশ মনে করেন, ” বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শত্রু দেশ হচ্ছে ভারত!’
> মজার বিষয় হচ্ছে, এদের মা, বোন ও স্ত্রীরা যে শাড়ি পরেন তার অধিকাংশই হচ্ছে ভারতীয় শাড়ি।
> ভারতীয় চাল খেয়ে ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া এদের একটা জন্মগত অভ্যাস।
> ভারতীয় তুলোর বালিশে ঘুমিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করা এদের একটা জন্মগত স্বপ্নদোষ।
> ভারতের টাটা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে এরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন।
> বাংলাদেশের একশ্রেণীর মুসলমান মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ , আসাম , ত্রিপুরা , মিজোরাম , মেঘালয় এসব বাংলাদেশের বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি । যদি প্রশ্ন করেন তবে অধিকাংশ বলবে ১৯৪৭ সালে এসব পাকিস্তানের বাপ দাদাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল!
> এখন যদি পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করেন, ১১০০ মাইল দূরের পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের বাপ দাদাদের পৈতৃক সম্পত্তি হয় কি করে? তাহলে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গ , হায়দ্রাবাদ ও সিকিমকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্যে ঘোষণা করেনি কেন? এসবের উত্তর না দিতে পেরে এরা আপনাকে এমন হাস্যকর উত্তর শুনিয়ে দিবে যে আপনি আসমান থেকে পড়বেন।
প্রথমে এদের উত্তর খেয়ে আপনি টাস্কি খেয়ে উল্টে পড়ে যাবেন।এরা আপনাকে ৭০০ বছরের ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনের মোগল সাম্রাজ্যে ও দিল্লী সালতানাতের গল্প শুনিয়ে বলবে, আমরাই ভারতের প্রকৃত মালিক। এখন যদি জিজ্ঞেস করেন, এই দিল্লী সালতানাত ও মোঘলরা এসেছে কোথা থেকে?
তখন এসব বুইঙ্গাদের এক বিশাল ইতিহাস আপনাকে শুনিয়ে দিবে। অর্থাৎ জন্মস্থান না হলেও দখল করলেই আপনি মালিক! মূলত এই আধিপত্যবাদ থেকেই এদের মগজে সেভেন সিস্টার্স দখলের গল্প তৈরি হয়েছে। এজন্য এরা আপনাকে মীর কাসেম, ইখতিয়ার খলজীদের বীরত্বের ” তলোয়ার ইতিহাস” পড়িয়ে গজওয়াতুল হিন্দি এর গল্প শোনাবে। আসমান থেকে আবাবিল পাখির গল্প শুনে আপনি ধপাস করে মাটিতে পড়ে যাবেন।এমন ধসাস তত্ত্ব থেকেই এই দেশের একদল (ছা+ গু) নিজেদের শাউয়া হাদী ও ঘেউ ঘেউ হাসনাত ভেবে ভারতকে নিজেদের অঙ্গরাজ্যে ভেবে স্বপ্নদোষ ঘটিয়ে জান্নাতে চলে যায়। এদের এসবের মূল কারণ হচ্ছে আরবের বেদুইন ও যাযাবর জাতি। মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত, ঠিক তেমনি এই ছাগুদের দৌড় আরবের মরুভূমি পর্যন্ত।আজ থেকে ১৩০০ বছর আগে আরবের একদল ক্ষমতালোভী এভাবেই পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্যে দখল করে তা নিজেদের সম্পদ ভাবতে শুরু করেছিলো।
আজ থেকে ৩ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে এই ধর্মীয় আধিপত্যবাদ নামক নোংরা রাজনীতির শুরু করেছিল খ্রিষ্টানরা। তখনও পৃথিবীতে মুসলমান বলতে কোন শব্দ ছিলো না। পরবর্তীতে খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের মতো শিয়া ও সুন্নি মুসলিম তথা ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এরপর খ্রিস্টান ও মুসলমান মিলে পৃথিবীতে ইহুদি হত্যা করে নিজেদের আধিপত্যবাদ ও শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিতে থাকে। এরাই সপ্তম শতাব্দীতে মশলার লোভে ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল। ভারতবর্ষের ব্যাঙ্গালোর থেকে কুমারিকা প্রণালী পর্যন্ত আরব সাগরের তীরবর্তী মালাবার বা কেরল অঞ্চলে আজ থেকে দুই হাজার বছর আগে থেকেই পূর্তগিজ , স্পেনিশ ও আরবের বণিকরা ধীরে ধীরে ব্যবসা বাণিজ্যর নামে ভারতবর্ষে ঢুকতে শুরু করে৷ স্প্যানিশ , পূর্তগিজ ও ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভারতবর্ষ শাসন করা মুসলমান ভারতবর্ষকে তাদের বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে ” গজওয়াতুল হিন্দ ” নামক এক গাঁজাখুরি গল্পের প্রচার শুরু করে।এই গজওয়াতুল হিন্দ যারা প্রচার করে তাদের (ছা+ গু)= ছাগু বলা হয়।
ভারত বর্ষের ইতিহাস তিন হাজার থেকে চার হাজার বছরের খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ইতিহাস নয়। ভারত বর্ষের ইতিহাস প্রায় এক লক্ষ বছরের পুরোনো।আজ থেকে ত্রিশ হাজার বছর আগেও ভারত বর্ষে মানুষের বসতি ছিল। ভারতের সিন্ধু সভ্যতা প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। তখনও পৃথিবীতে কোন মুসলমানের আগমন হয়নি। মুসলমানদের ইতিহাস হচ্ছে মাত্র ১৫০০ বছরের ইতিহাস। এসব আপনি স্বীকার না করলেও কিছু আসে যায় না। আরব জাতির খ্রিস্টান , ইহুদি, জরাথ্রুস্ট , হানিফ ধর্ম থেকে এই ইসলামের উৎপত্তি। ইব্রাহিম ধরলে এর ইতিহাস তিন থেকে চার হাজার বছরের বেশি কিছুতেই নয়।
আজ পাঁচ হাজার বছর পূর্বেই ভারতে নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। সুমেরীয় , মেসোপটেমিয়ার মতোই সিন্ধু সভ্যতার ইতিহাস পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস।ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় ‘গিলগামেশ ‘ নামক গ্রন্থ লেখার পর থেকে তা কার্বন কপি করে পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের উৎপত্তি হয়।এর আগে সমগ্র পৃথিবীতে সনাতন ধর্ম ছাড়া আর কোন ধর্মের উপস্থিতি ছিলো না। সনাতন ধর্ম আজ থেকে প্রায় ছয় হাজার থেকে দশ হাজার বছরের পুরোনো।আজ থেকে পাঁচ হাজার আগে সিন্ধু সভ্যতা থেকেই হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল। এর আগে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ গাছ পূজা থেকে শুরু করে বানর ও সূর্য পুজা পর্যন্ত করেছে।এসব হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাস । প্রাচীন ও মধ্যযুগ পেরিয়ে পৃথিবী এখন এক আধুনিক বিশ্বে পরিণত হয়েছে।এই লড়াই প্রযুক্তির।এখানে তলোয়ার ও আবাবিল পাখির গল্পের আর খাওয়া নেই।
ভারতবর্ষের আয়তন ৩২, ৮৭ , ২৬৩ বর্গ কিলোমিটার । পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সারাবিশ্বে পরিচিত।মৌর্য , গুপ্ত, মোঘল ও ব্রিটিশ এমন অনেক ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যে দিয়ে ১৯৪৭ সাল থেকে ভারত পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ভারতের উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর আর পূর্বে বঙ্গোপসাগর তথা বাংলাদেশ । এই বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এর আগে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং তারও আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল , ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা সব ভারতের অংশ ছিল। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নামে ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের আগে পৃথিবীতে কোন স্বাধীন দেশের অস্তিত্বই ছিলো না।
> ১৯৪৭ দেশভাগের আগে ভারতের ৭ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের মানুষের নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক ছিলো।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি অভিশপ্ত রাষ্ট্র জন্ম নেওয়ায় এই সম্পর্ক পরিণত হয় শত্রুতায়। ক্ষমতালোভী পাকিস্তানীরা ১৯৪৭ সালে আজাদ কাশ্মীর আক্রমণ করে ” স্বাধীন কাশ্মীর” কে তিন টুকরা করে দেয়। এর একটি অংশ পাকিস্তানের কাছে, একটি ভারতের কাছে এবং অপর একটি অংশ চীনের দখলে। দোষ শুধু ভারত হয়, চীন ও পাকিস্তান হয়ে যায় নিষ্পাপ শিশু।
১৯৫০ সালে চীন স্বাধীন তিব্বত আক্রমণ করে দখল করে নিলে সিকিম তখনও স্বাধীন রাজ্য ও ব্রিটিশরা এর উপর প্রভাব বিস্তার করতো।তখন সিকিমের রাজা , ব্রিটিশ প্রশাসন ও ভারতের নেহেরু সরকারের মধ্যে ভারত- সিকিম শান্তি চুক্তি ( indo- Sikkimee Treaty) চুক্তির আওতায় সিকিমের জনগণ চীন থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য ভারতের অংশ হয়ে যায়। সিকিম হয় ভারতের ২২ তম রাজ্য। ভারত সিকিম দখল করে নিয়েছে এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।এসব নিয়ে ভারতের সিকিমের জনগণের কোন চুলকানি নাই কিন্তু যত চুলকানি বাংলাদেশের ছাগুদের অণ্ডকোষে।
১৭২৪ সালের আগে হায়দ্রাবাদ নামে ভারতে কোন রাজ্য ছিলো না। ইরান থেকে আসফ জাহ নামে এক মুঘল দখলদার ভারতের একটা ভূখণ্ড দখল করে তার নাম দিয়েছিলেন ” হায়দ্রাবাদ” । দখল করলেই যেন তা একদল মুসলমানদের বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে যায়। হায়দ্রাবাদের নাম ছিল বাঘানগরম বা ভাগ্যনগর।এটি ছিল হিন্দুদের আবাসভূমি। হায়দ্রাবাদ এর চারদিকে হচ্ছে ভারতের তেলেঙ্গানা , মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক। যেভাবে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পাকিস্তান স্বাধীন বেলুচিস্তান দখল করেছে ঠিক একইভাবে ভারত তার ভুমির মাঝখানে হায়দ্রাবাদ নিজেদের দখলে নিয়েছে। হায়দ্রাবাদের কোন মুসলমানের ভারতের সাথে থাকতে সমস্যা নাই, যত সমস্যা সব বাংলাদেশের নুনুভুতির ভাইরাসের।
> ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময় ১২০০ মাইল দূরের বাংলাদেশ নিজেদের অংশ বলে দাবি করলেও পাকিস্তান করাচি থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরের হায়দ্রাবাদ দাবি করেনি। এই প্রশ্ন পাকিস্তানের জিন্নাহ , টিক্কা, ইয়াহিয়া ও গো আযমের মত কুলাঙ্গারকে না করে ভারতকে কেন? নিজেদের সিন্ধু প্রদেশের কাছের মুসলমানরাই পাকিস্তানের কাছে তখন মুসলমান ভাই ছিলো না। অথচ আজ একদল বঙ্গপাল নূনুভুতির ভাইরাসে কান্নার শেষ নাই।আরে আহম্মকের দল, হায়দ্রাবাদের মুসলমানদের গিয়ে জিজ্ঞেস কর, ওরা খয়রাতে পাকিস্তান আর বঙ্গপালের অংশ হওয়ার মতো মূর্খ ও আহম্মক কিনা? এজন্য বলা হয়, ” যার বিয়ে তার কবর নাই, পাড়া পড়শীর ঘুম নাই! “
এমন হলে ১৪৫৮ থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কুমিল্লা পর্যন্ত শাসন করা আরাকানের বৌদ্ধ রাজারা বলবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত এসব মায়ানমারের অংশ। মায়ানমারের রাজারাই এসব শাসন করতো। আজকের আধুনিক বিশ্বে তাই যারা এসব আহম্মকি ও মূর্খ মতবাদ প্রচার করে ভারতের সাত রাজ্যকে নিজেদের বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি ভাবে তাদের খাঁটি বাংলায় বলা হয় ছা= ছাগল+ মাথার মধ্যে গু) = ছাগু। এদের সাথে তর্ক করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ ও ছাগলের এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য।।
