ফের সংবাদের শিরোনামে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র । এবারে তার একটি অডিও বার্তায় তোলপাড় পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে । বলা হচ্ছে যে সাংসদের বার্তাটি দলের কৃষ্ণনগর-২ ব্লক সভাপতি সঞ্জয় মুখার্জির উদ্দেশ্যে । যেখানে মহুয়াকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা যাচ্ছে যে ব্লক সভাপতির এলাকায় হাইওয়ের পাশে হোটেল গুলিতে ‘মেয়ের ব্যবসা’ চলছে এবং হোটেল থেকে টাকা তুলছে তার দলেরই কর্মীরা । সাংসদ মোট চারটি বিষয় দেখার জন্য ব্লক সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন । তার মধ্যে অন্যগুলি হল : ‘জুয়ার ব্যবসা থেকে পার্টির লোকেদের তোলাবাজি’, ‘ধান কেনায় নোংরামি’ এবং ‘আবাস যোজনায় কমপ্লেন’ । অডিও টি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল । যদিও অডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি এইদিন ।
অগ্নিমিত্রা পালের শেয়ার করা অডিও-তে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা গেছে, “হ্যালো,নমস্কার, সঞ্জয়বাবু….আমি কৃষ্ণনগর টু ব্লক নিয়ে বলছি । আমার ৩-৪ টে কথা আছে । আপনাকে ফোনে পাচ্ছি না বলে এখানে বলছি । আপনারা দেখে রাখুন । আপনাদের ওখানে হাইওয়েতে প্রত্যেকটা হোটেলে মেয়ের ব্যবসা চলছে । পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে । নাম্বার ওয়ান, মেয়ের ব্যবসা । জুয়া চলছে, পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে । ধান কেনার ওই যে অনেক নোংরামি চলছে….আমার কাছে অনেক চাষি এসেছিল যে ধান কেনা নিয়ে অনেক নোংরামি চলছে । চার নম্বর হচ্ছে গিয়ে, আপনাদের ওখানে আবাস যোজনা থেকে অনেক টাকা তোলার কমপ্লেন আসছে । পাঁচ নম্বর, আপনার কোন শ্যালক আছে তন্ময় মুখার্জি, আমি নাম শুনিনি, তিনিও নাকি যুক্ত ।
আপনারা কিন্তু এই তিন চারটে জিনিস ইমিডিয়েট এখন বন্ধ করান। ঠিক আছে ? প্লিজ সঞ্জয় বাবু । কৃষ্ণনগর টুতে এই মেসেজটা পাচ্ছেন, একটু বলে দেবেন।”
অগ্নিমিত্রা পাল প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,”বাংলার মানুষ, শোনো—কীভাবে তাদের প্রভাবশালী নেত্রী মহুয়া মৈত্র নিজেই একজন জেলা নেতাকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা এবং সেই অর্থ কীভাবে দলীয় তহবিলে যাচ্ছে সে সম্পর্কে বলতে শোনা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সততার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি এই ঘটনাগুলি সম্পর্কে অজ্ঞ নন—তিনি সবকিছু জানেন। বাংলার মানুষের এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, বিজেপি সরকারের মাধ্যমে বাংলায় একটি নতুন যুগ এবং আশার নতুন আলো ফুটে উঠতে পারে।”
