এইদিন ওয়েবডেস্ক মোরাদাবাদ,১৩ মার্চ : বাড়িতে বসে ফোনে হনিট্রাপে ফাঁসিয়ে ব্লাকমেলিং চালানো গোটা পরিবারকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশ ।ধৃতদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন মহিলা এবং একজন পুরুষ । একটি বিবৃতিতে মোরাদাবাদ পুলিশ ধৃতদের চিহ্নিত করেছে : ১) মোরাদাবাদ জেলার কাটঘর থানার তাজপুর মাফির ঘোসিপুরা গ্রামের বাসিন্দা ফয়সালের স্ত্রী রিহানা । ২) মোরাদাবাদ জেলার কাটঘর থানার তাজপুর মাফির ঘোসিপুরা গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালি আহমেদের স্ত্রী চাঁদ বিবি । ৩) ভোজপুর থানার ধরমপুরার বাসিন্দা সুলেমানের স্ত্রী ইলমা। বর্তমানে তারা মোরাদাবাদ জেলার রসুলপুরের বাসিন্দা । ৪)মোরাদাবাদ জেলার কাটঘর থানার তাজপুর মাফির ঘোসিপুরা গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালি আহমেদের মেয়ে শাগুফতা । এবং ৫) মোরাদাবাদ জেলার রসুলপুরের বাসিন্দা নিজামউদ্দিনের ছেলে সুলেমান । তাদের কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা এবং ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রে আরও ১২ যুক্ত আছে৷ তাদের সন্ধান চলছে।
জানা গেছে,এই চক্রের মধ্যমণি ফয়সালের স্ত্রী রিহানা । সে ওয়ালি আহমেদের স্ত্রী চাঁদ বিবি,সুলেমানের স্ত্রী ইলমা এবং ওয়ালি আহমেদের মেয়ে শাগুফতাকে নিয়ে এই চক্রটি পরিচালনা করছিল। রিহানার ভাই সুলেমান ছাড়াও অন্য ভাই ও দেবর সৈয়দ, ইমরান, নানু, আব্দুল রেহমান এবং মা আশরাফ জাহান পর্যন্ত যুক্ত ছিল ।
কিভাবে চলত এই অনৈতিক কারবার ?
রিহানা,চাঁদ বিবি,ইলমা এবং শাগুফতা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত পুরুষদের সাথে বন্ধুত্ব করত । পরে তাদের প্রলুব্ধ করে নগ্ন হতে বলত । তারপর তাদের নগ্ন ভিডিও তৈরি করে শুরু হত ব্লাকমেলিং ৷ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মোরাদাবাদ জেলার মুঘলপুরা থানার জামা মসজিদ পার্ক বরবালানের বাসিন্দা এক ব্যক্তি মোঘলপুরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির পর্দাফাঁস করে পুলিশ ।
মোরাদাবাদের এসপি রণবিজয় সিং বলেন, “সিও কোতোয়ালি এবং এসএইচও মুঘলপুরার একটি দল ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই দলে ৪ জন মহিলা এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। তারা একটি ‘হানি ট্র্যাপ’ গ্যাংয়ের সদস্য। গত মাসের ২৫ তারিখে, একজন ব্যক্তি এসএইচও মুঘলপুরার কাছে যান এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে কিছু লোক তার কাছ থেকে টাকা আদায় করছে এবং তাকে শোষণ করছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, প্রথমে একজন মহিলা তার ফোনে ফোন করেছিলেন; তিনি আসার পর, তার একটি আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই তার কাছ থেকে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে… উন্মোচিত প্রমাণের ভিত্তিতে, ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং আরও ১২ জনের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। জড়িত বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য বর্তমানে তল্লাশি অভিযান চলছে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ টাকা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।’ এই বিষয়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান তিনি ।।
