প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১২ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সংকট। তার কারণে আগামীকাল শুক্রবার ১৩ মার্চ থেকে ভোগ বিতরণ বন্ধ করা হচ্ছে বর্ধমান শহরের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে।জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে বৃহস্পতিবার মন্দির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন।
বর্ধমান শহরের ডিএন সরকার রোডে অবস্থিত সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের অন্যতম প্রধান জাগ্রত দেবী ও পবিত্র শক্তিপীঠ। ১৭০২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা কীর্তিচাঁদ নির্মিত এই মন্দিরটি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নবরত্ন মন্দির। এখানে প্রায় ১০০০ বছরের পুরনো দেবী সর্বমঙ্গলার শিলামূর্তি পূজিতা হন । বর্ধমান মহারাজা কীর্তিচাঁদ মহতাব ১৭০২ খ্রিষ্টাব্দে এই মন্দিরটি স্থাপন করেন। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটার কাজ খচিত নবরত্ন মন্দির। দেবী সর্বমঙ্গলা দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে দেবী খুব জাগ্রত এবং মানুষের মনস্কামনা পূরণ করেন। মূল মন্দিরের আশেপাশে রামেশ্বর ও বাণেশ্বর নামে শিবের মন্দির এবং নাট মন্দির অবস্থিত। এই মন্দিরটি নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সর্বমঙ্গলার স্বপ্নাদেশ পেয়েই মহারাজা কীর্তিচাঁদ এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উৎসবের সময়, বিশেষ করে নতুন বছরের শুরুতে বহু মানুষের সমাগম হয়।
ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সঞ্জয় ঘোষ এদিন জানান, প্রতিদিন ৪০০ জনের ভোগ রান্না হয়।তাতে গড়ে প্রতিদিন একটি করে গ্যাস সিলিণ্ডার খরচ হয়।এই ৪০০ ভোগের মধ্যে ৩০০ ভক্ত রোজ মন্দির চত্বরে বসে খান । আর ১০০ মালসা ভোগ বাড়ির জন্য ভক্তরা নিয়ে যান । বসে খাওয়ার জন্য ৫০ টাকার কুপন কাটা হয়। আর মালসা ভোগের জন্য কুপনের দাম নেওয়া ৬০ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় এই ব্যবস্থা চালু রাখার এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই নিরুপায় হয়েই ১৩ মার্চ থেকে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মন্দিরে এদিন পুজো দিতে আসা ভক্তদের অনেকে বলেন,’ইতিপূর্বে মহামারী কোভিডের সময়েও বেশ কয়েক মাস সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ভোগ রান্না বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এমনকি মন্দিরের গেটেও তালা পড়েছিল।আর এবার উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের জরে মন্দিরে থাকা সর্বসাধারণের ভোগ রান্নার হেসেলে তালা লাগাতে হল।’ এনিয়ে তাদের একটু হতাশই দেখালো ।।
