এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ মার্চ : ২০২৬-এর বিধানসভার ভোটে কলকাতার ভবানীপুর আসনের দিকে নজর থাকবে সকলের । কারন ২০২১ সালের বিধানসভার ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর এই আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন মমতা । তারপর থেকে ভবানীপুর আসনটি টার্গেট করেছেন শুভেন্দু । তিনি বারবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে ভবানীপুরে তিনি মমতাকে হারাবেনই । শুভেন্দুর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আজ সোমবার আত্মবিশ্বাসী মমতা জানান যে এক ভোটে হলেও ভবানীপুরে তিনি জিতবেনই । অর্থাৎ,আজ একথায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এবারেও তিনি নিজেই ভবানীপুর আসনে প্রার্থী হবেন ।
দিন দুয়েক আগে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,’ভবানীপুরে ওকে(মমতা ব্যানার্জি) হারাবোই ।’ কেন এত আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি একথা বলছেন,তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন৷ শুভেন্দু বলেন,’৪৫ হাজার নাম এস আই আর-এর প্রথম রাউন্ডে বাদ গেছে। আর বিবেচিত হবে ১৪৫১৪ । মোট প্রায় ৬০ হাজার । ওনাকে জেতানোর মত ভোটার ভবানীপুরে নেই । এসআইআর-এ সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। ভবানীপুরে “ওকে” হারাবই।’
অন্যদিকে আজ সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দোল ও হোলির প্রাক-উৎসবে যোগ দিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা বলেন,’বিজেপি যত চক্রান্তই করুক, এক ভোটে হলেও ভবানীপুরে আমিই জিতব ।’ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ভবানীপুর একটি ছোট কেন্দ্র যেখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২.৬ লক্ষ। আগে ৫৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, এবারও প্রায় দু’হাজার ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মৃত ভোটারদের তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে আইনি লড়াই— সব ক্ষেত্রেই তিনি ও তাঁর দল প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। তবুও কেন ভোটারদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন,’কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। যারা প্রকৃত ভোটার, তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি ভোট করাতে চাইছে তারা। কিন্তু বাংলার মানুষ সব বোঝেন, তাঁরা ব্যালটেই এর যোগ্য জবাব দেবেন৷’।

