প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২২ ফেব্রুয়ারী : শাসকদলের শতখুন মাফ ! তাই উচমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় যেখানে সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ,সেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বহাল তবিয়তে বাজনা বাজিয়ে মিছিল করলেও চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে । শনিবার বিকালে শহর বর্ধমানের রাজপথে রীতিমতো ব্যান্ডপার্টি সহযোগে মাইকে ব্যাঞ্জো বাজিয়ে “বেপরোয়া তৃণমূল” এর এভাবে শক্তি প্রদর্শন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে । পাশাপাশি বর্ধমান পুলিশের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তুলছে সাধারণ মানুষ । যদিও বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হতেই বর্ধমান উত্তরের মহকুমা শাসক রাজর্ষি নাথের সাফাই হল,বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
জানা গেছে,বর্ধমান-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নামে শনিবার বিকেলে শহর বর্ধমানের রাজপথে মাইকে ব্যাঞ্জোর সুরে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে একটি মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নবাবহাট মোড়ে শেষ হয় । শুধু তাইই নয়,মিছিল শেষে আইনের তোয়াক্কা না করে নবাবহাট মোড়ে একটি পথসভাও করা হয় । মিছিল ও পথ সভায় বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশিথ মালিক ও ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মানস ভট্টাচার্য সহ ব্লকের সমস্ত নেতা-নেত্রীরা ছাড়াও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রাসবিহারী হালদার এবং জেলাপরিষদের সহ-সভাপতি গার্গী নাহা উপস্থিত ছিলেন।মিছিলের মধ্যে থাকা একটি টোটোর মাথায় লাগানো ছিল দুটি মাইক।আর ওই টোটোয় বসে এক ব্যক্তি ব্যাঞ্জোয় সুর তুলছিলেন। ব্যাঞ্জোর সেই সুরই বাজছিল টোটোটির মাথায় লাগানো মাইকে। তারই তালে তালে ব্যান্ড পার্টির সদস্যরা জোর কদমে বাজাচ্ছিলেন তাদের বাদ্যযন্ত্রগুলি ।তৃণমূলের এই প্রকার শক্তি প্রদর্শনের ঠ্যালায় কান ঝালাপালা হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের৷ তৃণমূলের এই মিছিল ঘিরে শহরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় ।
উল্লেখ্য,আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলবে।উচ্চ মাধ্যমিক যতদিন চলবে সেই কটাদিন মাইক বাজানো,মিটিং- মিছিল করা নিয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এই মিছিল কি ভাবে করা সম্ভব হলো? এই প্রশ্ন উঠছে । স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন যে পরীক্ষার মধ্যেই কি শক্তি প্রদর্শন খুব জরুরি ছিল ?
যদিও এরপরেই বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক মনে করছেন যে তারা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি৷ তার সাফাই হল, পুলিশের অনুমতি নিয়েই এদিনের মিছিল ও পথ সভা হয়েছে। শব্দ বিধি মেনেই গোটা কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে। ছোট বক্স বাজিয়ে সভা হয়েছে। মিছিলে বাজনা থাকলেও কোন মাইক ছিল না বলে নিশীথ মালিক দাবি করেছেন। একই দাবি করেছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মানস ভট্টাচার্যও । তাঁর দাবি,মাইক,বাজনা সবই বেজেছে শব্দ বিধিরও নিচে। তবুও বিরোধীরা তৃণমূলের এই মিছিল নিয়ে খুঁত খুঁজতে নেমে পড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৃণমূল নেতা মানস ভট্টাচার্য বলেন,আসলে এদিনের তৃণমূলের মিছিলে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের ৯ টি অঞ্চলের ১৯৭ টি বুথের ১৫ হাজার মানুষ মিছিলে পা মিলিয়ে ছিলেন। সেটা দেখে বিরোধীরা বিশেষত বিজেপি নেতারা বুঝে গিয়েছে বর্ধমানের মাটি তৃণমূলের দুর্ভেদ্য ঘাটি। নির্বাচন কমিশন সহ নানা এজেন্সিকে কাজে লাগোনা হলেও ভোটে এবারও বর্ধমানে পদ্ম ফুটবে না ।বর্ধমান সহ গোটা বাংলায় আবারও ঘাস ফুলই ফুটবে।সেটা বুজে গিয়ে বিজেপি নেতারা এখন শুধুই তৃণমূলের খুঁত খুঁজে বেড়াচ্ছে।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দারাই অভিযোগ করছেন যে তৃণমূলের বিধায়ক ও নেতারা মিথ্যাচার করছেন ৷ কারন শহর বর্ধমানের রাজপথে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের ছবি এখন ফোনে ফোনে ঘুরছে । যেখানে টোটোর মাথায় স্পষ্ট জোড়া মাইক দেখা গেছে । জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,’তৃণমূল দেশের সংবিধান,আইন-কানুন কোন কিছুই মানে না। তাই সরকারী বিধি নিষেধও ওরা মানবে না, এটাই স্বাভাবিক।তাইতো সপ্তাহ খানেক আগে শব্দ বিধির তোয়াক্কা না করে কাশিয়ারা গ্রামে লক্ষ্মী এলো ঘরে সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন বিধায়ক নিশীথ মালিক।অনেকটা একই পথে হেঁটে শনিবার মাইকে ব্যাঞ্জোর সুর বাজানোর সাথে সাথে ব্যান্ড পার্টির বাজনা সহযোগে মিছিল করে বর্ধমানের তৃণমূল নেতারা সেটা আরো একবার প্রমান করে দিলেন। প্রশাসন বিরোধীদের বেলায় অতি সক্রিয় আর শাসক দলের বেলায় নিস্ক্রিয় থাকে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র দাবি করেছেন। শুধু শাসকদলই নয়, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ । তাদের প্রশ্ন যে মিছিলে পুলিশ থাকলেও মাইক ব্যবহার কেন বন্ধ করা হল না ? যদিও জেলা পুলিশের তরফে অভিযোগ প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি ।।

