এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ ফেব্রুয়ারী : আজ শনিবার রাজ্য সরকারের আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড় চলছে রাজ্য রাজনীতি । বৃহস্পতিবার কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদানের পর এখন অনন্ত মহারাজের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা । অবশ্য, রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্য সরকার আজ অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ পুরষ্কার দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায় । তবে এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ওই রাজবংশী নেতার সাক্ষাৎ এবং সর্বোপরি এখন বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই ফের মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে একই মঞ্চে তার উপস্থিতিতে জল্পনা চলছে যে উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে ফের একটা জোরালো ঘা দিতে চলেছে তৃণমূল ।
বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও যে ধন্দ্ব আছেন, সেটা তার কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে । তবে তিনি মনে করছেন,আসন্ন বিধানসভার ভোটে রাজবংশী সম্প্রদায় এমন কিছু কাজ করবে না যাতে রাজ্যের হিন্দুদের স্বার্থের পরিপন্থী হয় ।
মমতা ব্যানার্জির হাত থেকে অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ পুরষ্কার নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আজ সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’ওটা তৃণমূলের মঞ্চ নয়,সরকারি মঞ্চ । এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী তার বাড়িতে গিয়েছিলেন । রাজবংশীরা হিন্দুদের ক্ষতি হবে এমন কোনো কাজ বিধানসভার ভোটে করবে না । অতএব রাজবংশীদের নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার দরকার নেই ।’ তিনি বলেন,’এই নির্বাচন সনাতন সংস্কৃতি এবং পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন । এটা ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা ও প্রনম্য চিলা রায়ের অনুগামীরা যা করার ভেবেচিন্তেই করবেন।’
উল্লেখ্য,দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে অনন্ত মহারাজের দূরত্ব বাড়ছিল। এদিন সরাসরি সরকারি মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মান গ্রহণ এবং তাঁর পাশে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে উত্তরবঙ্গে বিজেপির বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’উনি যেটা করেছেন বা করছেন সেটা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার । তবে আজকে নতুন নয়,লোকসভার নির্বাচনের আগেও মুখ্যমন্ত্রী ওনার বাড়িতে গিয়ে চা খেয়ে এসেছেন । মুখ্যমন্ত্রী কোনো সামাজিক নেতার সঙ্গে করতেই পারেন ।’ তিনি বলেন,’আমরা ওনাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম মূলত রাজবংশী সমাজের একজন সামাজিক নেতা বলে । রাজবংশী সমাজে অনেক সামাজিক নেতা রয়েছেন, উনি একা নয় । রাজ্যসভাতে পলিটিকাল লোক যায় না । তাহলে জহর সরকাররাও তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ত না । আরজি করের ঘটনার পরে রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে তিনি বলেছেন যে তৃণমূলের সঙ্গে কোনো ভদ্রলোক থাকতে পারে না ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘একটা সময় মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি । আজকে তো মিঠুনদা বিজেপির সক্রিয় সদস্য এবং তিনি রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচারক । তার সভায় হাজার হাজার মানুষ আসে ।’
যদিও এই বিষয়ে অনন্ত মহারাজ বা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে সরাসরি দলবদল নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে মঞ্চের এই রসায়ন তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধির স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।।
