এইদিন ওয়েবডেস্ক,আহমেদাবাদ,২১ ফেব্রুয়ারী : ‘লাভ জিহাদ’ রোধ করতে গুজরাট সরকার বিবাহ নিবন্ধনের নিয়মে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রস্তাব করেছে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রেমের বিবাহ সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক করার পরিকল্পনা করেছে।
লাভ জিহাদ প্রতিরোধে গোপনীয়তা, পিতামাতার সম্মতি এবং পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য গুজরাট সরকার গুজরাট বিবাহ নিবন্ধন বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে । যার ফলে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এনিয়ে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে ।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, সার্টিফিকেশন সময়কালে আবেদনপত্র গ্রহণের ৪০ দিনের মধ্যে জালিয়াতি রোধ করার জন্য কঠোরভাবে পরিচয়পত্র, সাক্ষী এবং নোটারি পরীক্ষা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভি ব্যাখ্যা করেছেন,বিবাহ নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার পিতামাতাকে হোয়াটসঅ্যাপে অবহিত করবেন। সহকারী রেজিস্ট্রার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট জেলা বা তালুক রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করবেন। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে যে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরে, যাচাইকরণ এবং উপ-নিয়ম (১ থেকে ৭) মেনে চলা নিশ্চিত করার পরে বিবাহ নিবন্ধিত হবে ।
শুক্রবার বিধানসভায় উত্থাপিত এই প্রস্তাবের ফলে রাজ্যে বিবাহ নিবন্ধন শংসাপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, বর-কনেকে তাদের বাবা -মাকে বিবাহ সম্পর্কে অবহিত করার ঘোষণাপত্র, তাদের বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র, ফোন নম্বর এবং আবাসিক প্রমাণ সহ অন্যান্য নথিপত্র জমা দিতে হবে।
প্রস্তাবিত প্রস্তাবের মূলে একটি বিধান রয়েছে যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে । প্রেমের বিবাহ নিবন্ধনের জন্য দম্পতি আবেদন করলে, মেয়েটির বাবা-মাকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে । কিন্তু বিবাহ নিবন্ধন শংসাপত্র জারি করা হবে আবেদন দাখিলের ৪০ দিন পরে ।
সরকার যুক্তি দিচ্ছে যে এই ৪০ দিনের বিলম্বের ফলে জোরপূর্বক, ভুল উপস্থাপনা বা জাল পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভি সংসদে বলেন, “আমরা প্রেমের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যদি কোনো ‘সেলিম’ নিজেকে ‘সুরেশ’ নামে জাল পরিচয় দিয়ে কোনও মেয়েকে ফাঁদে ফেলতে যায়, তাহলে রাজ্য সরকার এই ধরনের প্রতারণার অনুমতি দেবে না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পিতামাতার অনুমতিপ্রাপ্ত প্রকৃত দম্পতিদের কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হবে না, তবে যারা তাদের পরিচয় গোপন করবেন তাদের কঠোর তদন্তের আওতায় আনা হবে। সাংভি বলেন, নতুন পদ্ধতিগত পরিবর্তনগুলি সরকারের ‘বহুবর্ষের ঐতিহ্য এবং বিবাহ ব্যবস্থা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতির’ ফল।তিনি বলেন,”মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক কাঠামো বজায় রাখার জন্য, সরকার ‘গুজরাট বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০০৬’-এর অধীনে বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে । এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, এখন পিতামাতাদের বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে ।”পঞ্চমহল জেলায় জারি করা জাল বিবাহের শংসাপত্রের ঘটনা উল্লেখ করে সাংভি বলেন,”রাজ্যে মেয়েদের ফাঁদে ফেলার জন্য সমাজবিরোধীরা তাদের পরিচয় গোপন করে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করছিল এতদিন ।”

