এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৯ ফেব্রুয়ারী : ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দান- খয়রাতির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললো সুপ্রিম কোর্ট । প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (Tamil Nadu Electricity Board) রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল । আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান ‘দান-খয়রাতি সংস্কৃতি’ বা ‘Freebie Culture‘ নিয়ে ফের তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট ।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ হল,’সম্প্রতি কিছু কিছু রাজ্যে কী ঘটেছে, তা আমাদের জানা আছে। ভোটের আগে হঠাৎ উন্নয়নের স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। এভাবে যদি সরাসরি নগদ টাকার স্কিম ঘোষণা করা হয়, তাহলে কি মানুষ আর কাজ করতে চাইবে?’ প্রধান বিচারপতি বলেন,’আমরা বুঝতে পারছি যাঁরা বিদ্যুতের বিল দিতে অক্ষম, তাঁদের সাহায্য করতে চাইছেন। কিন্তু কে বিল দিতে পারবেন আর কে পারবেন না, সেই বিভাজন না করেই কেন সবাইকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে? এটা কি স্রেফ তুষ্ট করার নীতি নয়?’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যদি আপনারা সকাল থেকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া শুরু করেন, সন্ধ্যায় বিনামূল্যে সাইকেল দেন, তার পর আবার নিখরচায় বিদ্যুৎও দেন, তা হলে কে আর কাজ করবে? কর্মসংস্কৃতির কী হবে?’
উল্লেখ্য,কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার “যুবসাথী” প্রকল্পে মাসিক ১৫০০ টাকা করে ৫ বছর অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে । সেই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫৯৯ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, তামিলনাড়ুতেও এভাবে ভোটের আগে দান-খয়রাতির ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে । পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছর এবং তামিলনাড়ুতে পরের বছর বিধানসভার ভোট হবে । শীর্ষ আদালতের মতে, এই ধরনের সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই মন্তব্য আদপেই রাজ্য সরকারগুলির উপর প্রভাব ফেলে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয় ।।

