এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৮ ফেব্রুয়ারী : হিন্দু পুলিশকর্মীর ঘাতক ও ভারত বিদ্বেষী বাংলাদেশি ছাত্রনেতা মাহদী হাসানকে আটক করে নিজের দেশে ফেরত পাঠালো ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশ৷ দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে ৪০ মিনিট আটক রাখার পর ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ।
মাহদী হাসান হল বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার এসআই সন্তোষ দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায় ।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে মাহদীর অজান্তে রেকর্ড করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেসব পোস্টে নাম পরিচয় উল্লেখ করে তাকে ‘জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি’ বলে প্রচার করা হয় । দাবি করা হয় যে ওই জিহাদি ইউরোপ পালাচ্ছে । যদিও মাহদী হাসান দাবি করে যে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকার ফ্লাইট ধরতে দিল্লী বিমানবন্দরে গেলে সেখানে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। তৎক্ষনাৎ সে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
ভারতে বাংলাদেশের কনসুলেটে একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও-এর প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মাহদীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। এরপর আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দিল্লী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। তৎক্ষণাৎ তিনি হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
গতকাল মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে জানায়, ফিনল্যান্ডের ভিসা সংক্রান্ত কাজে দিল্লীতে ভিএফএস সেন্টারে কাগজপত্র জমা দিতে গিয়েছিল সে । সেখানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার ভিডিও রেকর্ড করে।তারপর থেকে তার মোবাইলে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ ও কল আসতে থাকে। এসব কল ও মেসেজ থেকে সে বুঝতে পারেন কেউ তার অজান্তে তার বর্তমান অবস্থান, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে। তবে কে বা কারা ভিডিওটি রেকর্ড করেছে এ ব্যাপারে কিছু জানেনা বলে জানিয়েছে ওই জিহাদি ।
উল্লেখ্য , বছরের শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করেছিল থানায় নিয়ে যায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ। তার মুক্তির দাবিতে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে উগ্র ইসলামি নেতা-কর্মীরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আবুল কালামের অফিসে ঢুকে হুমকি দেয় । সেই সময় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’

