এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৭ ফেব্রুয়ারী : ধর্মান্তরিত হওয়ার নাটক করে হিন্দুদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগ উঠল বাংলাদেশের বগুড়ার এক মুসলিম তরুনীর বিরুদ্ধে । বিষয়টি নিয়ে স্বজাতীয়দের সতর্ক করে দিয়েছেন রিপন দাস নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী । তিনি লিখেছেন,বিশেষ সতর্কবার্তা : নাদিরা ইসলাম মীম (https:// www.facebook. com/share/1CRTadaPSg/) নামের একটি আইডি থেকে সনাতনীদের প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের পোষ্ট করে যাচ্ছেন।এতে সনাতনীরা নিজের অজান্তেই ভুল করতেছে…আসলে এইখানে ছবি ব্যাবহার করা হয়েছে rubiya blogs নামের একটি পেইজের সব তথ্য প্রমাণ আমাদের ফাইলে জমা আছে৷ সনতানীদের বলবো আবেগে বশীভূত হয়ে ভুল করে বসবেন না।’
তিনি আরও লিখেছেন,’মেয়েটি সনাতন ধর্ম গ্রহণ করবে বলে অনেকের কাছে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করে আসছে।AI এর মাধ্যমে ছবি এডিট করে লাল সুতো তিলক ব্যাবহার করে মানুষের অনুভূতি এবং আবেগ নিয়ে চলনা করছে।সবাই আইডিটার বিরুদ্ধে একশন নিন এবং বুঝিয়ে দিন ভুয়া তথ্য মানুষের কতটা ক্ষতি করতে পারে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন মেয়েটির আসল তথ্য৷ আইডি লিংক কমেন্ট বক্সে দিয়ে দিচ্ছি৷’
নাদিরা ইসলাম মীম নামে ওই ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে,’আমি নতুন করে বাঁচতে চাই, মাথা উঁচু করে সনাতন ধর্মের পতাকা বহন করতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপকরণ জোগাড় করতে আপনাদের সামান্য আর্থিক সহযোগিতা আমার কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ হবে। আপনাদের ছোট একটি দান: আমার জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। আপনাদের ভালোবাসা: আমাকে একাকীত্বের অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে পারে।আপনাদের সমর্থন: প্রমাণ করবে যে কোনো সনাতনী ভাই বা বোন কখনো অসহায় নয়।আমি জানি, আপনাদের একেকটি ফোঁটা সাহায্য আমার জন্য সমদের সমান শক্তি…..।”
অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়েছে,”জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের অস্তিত্বের গভীরে এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আহ্বান অনুভব করছিলেন। তার ভাষায়, এটি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং বহুদিনের আত্মঅনুসন্ধান, বিশ্বাস ও শেকড়ের টান থেকেই নেওয়া এক ব্যক্তিগত পদক্ষেপ।” তিনি লেখেন, “আমি কোনো নতুন পথে হাঁটছি না, বরং আমি ফিরে যাচ্ছি সেই পথে, যে পথে আমার রক্ত ও পূর্বপুরুষরা হাজার বছর আগে হেঁটেছিলেন।” তার দাবি, সহস্র বছর আগে তার পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় পরিচয় ছিল সনাতন, আর সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়ই তিনি নিজের ‘আসল পরিচয়ে’ ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ধর্মীয় রূপান্তর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মন্তব্য স্বাভাবিক। তবে তার মতে, যখন কেউ নিজের সত্যকে উপলব্ধি করেন, তখন বাহ্যিক বাধা আর বাধা মনে হয় না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ঘৃণা বা প্রতিক্রিয়ার ফল নয়; বরং আত্মার শান্তি ও চিরন্তন সত্যের অনুসন্ধান।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এফিডেভিট প্রকাশ করেননি। কারিগরি সমস্যার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাম পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন; তবে শিগগিরই তা সম্পন্ন করবেন বলে জানান।
নিজের পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “নদী যেমন তার উৎসের দিকে ফিরে যেতে চায়, আমার আত্মাও আজ তার আদি পরিচয়ের সন্ধানে ব্যাকুল। আমি ফিরছি আমার ঘরে, আমার সত্যে।” নতুন এই পথচলায় সবার আশীর্বাদও কামনা করেছেন তিনি।ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার অংশ। তবে এমন ঘোষণা সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিসরে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকে—যা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ এবং সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে নাদিরা ইসলাম মিম থেকে নাদিরা দাস নাম গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি । পাশাপাশি কপালে রসকলি ও বুকে দু’হাতে একটি শ্রীমদভগবদগীতার কপি জড়িয়ে ধরে তোলা ছবি পোস্ট করা হয়েছে । যদিও বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হলে ওই ফেসবুক পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ সম্ভবত ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে ।।

