প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৬ ফেব্রুয়ারী : স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিল স্ত্রী । যুগল বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল । কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিল মহিলার স্বামী ৷ সেই কারনে প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করে স্ত্রী । আর স্ত্রী ও তার প্রেমিকের সেই পরিকল্পনা মোতাবেক নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘী থানার ক্ষেতিয়ার বিজয়বাটি এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম আনসারী ওরফে আরিফ । কিন্তু পুলিশের নজর থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেনি সফিকুলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতান ও তার প্রেমিক মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বল শেখ। দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে । আজ সোমবার ধৃতদের পুলিশ বর্ধমান আদালতে পেশ করে ৭ দিনের জন্য নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আবেদন জানায় । বিচারক ধৃতদের ৫ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেছেন ।
জানা গিয়েছে,সফিকুল চেন্নাইয়ে একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। মাস খানেক আগে তিনি বাড়ি আসেন । কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর চেন্নাই ফেরার কথা ছিল তার । ট্রেনের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল । কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি চেন্নাই যাওয়া বাতিল করেন । আর সময়ের মধ্যেই রাজিয়া সুলতানা ও বিবাহিত মমতাজউদ্দিন সেখের মধ্যে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন । প্রেমিক বিবাহিত জেনেও তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন রাজিয়া সুলতানা । কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী সফিকুল ইসলাম । তাই এই বাধাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে প্রেমিক আরিফের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন রাজিয়া ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে। জানা গেছে,রবিবার সকালে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে মিলিকপাড়ায় বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখের বাড়িতে যান সফিকুল। ওই দিনই সন্ধ্যা নাগাদ সেখানকার একটি সেচখাল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সফিকুলের মৃতদেহ । এটা যে হত্যার ঘটনা সেটা নিশ্চিত ছিল মৃতের পরিবারের লোকজন । কিন্তু হত্যার কারন ও হত্যাকারীদের পরিচয় নিয়ে তারা ধন্দ্বে ছিলেন । মৃতের মা মাস্তন্নিসা আনসারি এনিয়ে দেওয়ানদিঘী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ।
মাস্তন্নিসা আনসারি জানান,আততায়ীরা যে ভারী কোনো বস্তুদিয়ে মাথায় আঘাত করে সফিকুলকে খুন করে তার দেহ সেচখালে ফেলে দিয়ে পালিয়েছে সেটা তাঁদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

