এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,১৬ ফেব্রুয়ারী : মানুষের অসংযত কার্যকলাপে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা প্রায় দেড় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেতে চলেছে। আমরা আজকেই যদি সচেতন না হই তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই বিপদের মধ্যে পড়বে- এই ধারণাকে সামনে রেখে বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিলিত প্রয়াস একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজ সোমবার রবীন্দ্রভবনে একটি আন্তঃ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল, যার বিষয় ছিল “পরিবেশ সচেতনতা” । ছোট ছোট শিশুদের শিল্প সত্তার সাথে তাদের ভবিষ্যতে পরিবেশ বাঁচানোর দায়িত্ববোধের সংমিশ্রণে আজকের এই নাটক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল।
এই নাটক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বর্ধমানের তথ্য সংস্কৃতিক আধিকারিক রাম শংকর মন্ডল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ললিত কোণার, দীপেন্দ্রনাথ শীল সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নাটকের এই মঞ্চ থেকেই পাঁচজন বিশিষ্ট প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্বকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। আয়োজক সংস্থার তরফে প্রতনু রক্ষিত বলেন, “আজকের এই নাটক প্রতিযোগিতায় মোট আটটি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছিল । প্রত্যেকেই ভীষণ সুন্দরভাবে পরিবেশ বাঁচানোর আর্তি নাটকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে।” জল দূষণ, বায়ুদূষণ, মাটি দূষণ, জল সংকট থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের ব্যবহার, বৃক্ষ ছেদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সাইকেলের ব্যবহার সবকিছুই সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা এই নাটকের মধ্যে প্রকাশ পায় বলে তিনি জানান ।
এই নাটক প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন নীলেন্দু সেনগুপ্ত এবং শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী ।নাটকের শেষে বিচারকদের বিচারে প্রথম স্থান অধিকার করে পহলানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নারী ফ্রি প্রাইমারি বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় । এছাড়াও বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয় কিশলয় পথ শিশু পাঠশালা এবং হেমচন্দ্র জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়।
কিশলয় পথ শিশুদের পাঠশালার কর্ণধার ডঃ গোপাল ঘোষাল বলেন,”এই অভিনব উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ অভিভাবক অভিভাবিকারাও ভীষণ উৎসাহিত এবং আনন্দিত হন।” রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন,”ছোট ছোট শিশুদের বড় মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবং তাদের মনের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বীজ বপন করার এই উদ্যোগ সত্যি করেই প্রশংসার দাবি রাখে।”

